নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে এর নেতৃত্ব ও প্রতিচ্ছবিকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তার মতে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা সেই ষড়যন্ত্রেরই ধারাবাহিকতা।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, হাদির ওপর হামলার ঘটনায় এখনো জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারহীনতা চলতে থাকলে এ ধরনের সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক লড়াইয়ে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ছিল দ্বিমুখী। একদিকে জনগণের পক্ষে থাকা বুদ্ধিজীবীরা যেমন সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়েছেন, অন্যদিকে একটি অংশ বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে মতাদর্শিক সমর্থন জুগিয়েছে। বর্তমান সময়েও বুদ্ধিজীবীর পরিচয়ে কেউ কেউ জুলাই ও গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি মনে করেন, জনগণের পক্ষের বুদ্ধিজীবীরাই শেষ পর্যন্ত কথা বলবেন এবং চিন্তার ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার লড়াই অব্যাহত রাখবেন। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৭১, ২০২৪ ও ১৯৪৭—এই তিন সময়ের ঐতিহাসিক সংগ্রামের চেতনাকে ধারণ করেই একটি আত্মমর্যাদাশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় তিনি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগও করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের আস্থা এখনো ফিরেনি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে, না হলে গণহত্যাকারীরা ফের মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ পাবে।