January 10, 2026, 6:57 pm
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

নির্দেশ পেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত: হাদি ইস্যুতে মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া এই নেতা বলেন, হাসপাতালে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে তারা হাদির সমর্থক নয়; বরং অন্য একটি রাজনৈতিক দলের লোক।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“আমি শান্ত ছিলাম। আমার নির্দেশ পেলে তোমাদের তুলোধুনো করে দিত। কিন্তু আমরা শান্ত ছিলাম বলেই হাদির চিকিৎসা ব্যাহত হয়নি।”

হাদিকে দেখতে গিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা আব্বাস বলেন, “হাদি আমার সন্তানের মতো। তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এই হামলা শুধু একজন মানুষের ওপর নয়, এটি গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত।”

তিনি বলেন, দুপুর ২টার দিকে হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করে। হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখেছেন, পুরো ঘটনাই ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি ঢাকার মানুষ, দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে ঢাকায় রাজনীতি করি। হাসপাতালে যারা বিশৃঙ্খলা করেছে, তারা হাদির সমর্থক নয়। তারা চেয়েছিল চিকিৎসা ব্যাহত হোক এবং আরও বড় ক্ষতি ঘটুক।”

একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এই ধরনের ষড়যন্ত্র নতুন নয়। ১৯৭১, ১৯৮৬-সহ বহু সময়েই আমরা তাদের ষড়যন্ত্র দেখেছি। এরা কখনোই স্থিতিশীল রাষ্ট্র চায় না, বরং সব সময় অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়।”

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, “আমি কখনোই চাই না, কেউ গুলিবিদ্ধ হোক বা মারা যাক—সে যেই হোক না কেন। কিন্তু হাদির ওপর হামলার পর এক-দেড় শ মানুষ ফেসবুকে দেশে মব পরিস্থিতি তৈরির জন্য উসকানি দিয়েছে। তারা সবাই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত।”

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “১৯৭৭ সাল থেকে আমি নির্বাচন করছি। কখনো মারামারিতে জড়াইনি। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও একসঙ্গে কোলাকুলি করেছি, খেয়েছি। নির্বাচন ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার সংস্কৃতি একটি বিশেষ দলই চালু করেছে।”

হাদির ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার দাবি করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা চাই হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক এবং যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হোক। হাদি আমার শত্রু নয়, সে একজন প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। আমি তাকে আবারও নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় দেখতে চাই।”

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন–এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *