নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকার মিরপুরে সাবেক ছাত্রদল নেতার বাসায় ২০১৪ সালে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। মিরপুর মডেল থানার এসআই মাহমুদন্নবী গত ২৬ অক্টোবর অভিযোগপত্রটি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা দেন। আগামী ২৯ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার বাদী জান্নাত আরা ফেরদৌসের স্বামী মোহাম্মদ শামীম পারভেজ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর এবং সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে একদল লোক তাদের ফ্ল্যাটে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় ২২টি ল্যাপটপ, ১৭টি স্মার্টফোন, প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৯ লাখ টাকা লুট হয়ে যায়। পাশাপাশি নাবালকসহ ৫৪ জন ভাড়াটিয়াকে আটক করে মারধর করা হয়।
অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনা ও মহীউদ্দীনের পাশাপাশি আরও ২১ জনের নাম রয়েছে। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে আছেন—দেওয়ান আব্দুল মান্নান, মীর জসিম উদ্দিন, তৌহিদুল ইসলাম খান শিপলু, এসএম কিবরিয়া পিয়াস, মো. মামুন মিয়া ওরফে শাহজাহান, মনসুর আলী, ইসলাম ওরফে নিক্কন, ধাম্মাদ নুরুল হক, আব্দুল হামিদ ওরফে লিটন, বিপুল পাটোয়ারী, মো. মিজানুর রহমান আখন, জিয়াউল হাসান জিয়া, শহিদুল ইসলাম রজব, আনোয়ার হোসেন আনু, ইয়ানুহা চৌধুরী, এম. আয়নাল আহামেদ, জালাল দেওয়ান, মো. সাঈদ ইকবাল ওরফে ভাস্কর, মো. সামসুল হক, মো. ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রধান ও মো. আনোয়ার হোসেন।
এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জানান, এই মামলা শুধু লুটপাটের অভিযোগ নয়—এতে রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহমুদন্নবী বলেন, ঘটনাটি ‘পরিকল্পিত’ ছিল এবং তদন্তে সাবেক কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততা উঠে এসেছে।
বাদী জান্নাত আরা ফেরদৌস জানান, “২০১৪ সালের ওই হামলার পর থেকেই আমাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই আমাদের ব্যবসা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”