নিজস্ব প্রতিবেদক :
২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নতুন তথ্য উঠে এসেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে তদন্ত কমিশনে দেওয়া সাক্ষীদের জবানবন্দিতে। কমিশনের ৮৫ নম্বর সাক্ষী মেজর সৈয়দ মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শেখ ফজলে নূর তাপস ফোনে নির্দেশ দিয়েছিলেন, একটি ছেলেকে মিছিল করে বিডিআরের ভিতরে প্রবেশ করাতে। সেই ব্যক্তিকে ধরা হয় হাজারিবাগের একটি বাসা থেকে। তার নাম সম্ভবত জুয়েল, বয়স আনুমানিক ২১-২২ বছর। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, তাপসের নির্দেশে মিছিল নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছিল। পরে মিছিলে যুবলীগের লোকজনও অংশ নিয়েছিল।
জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করা হয়, লে. কর্নেল মোয়াজ্জেম তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টিএফআইতে নেয়ার নির্দেশ দেন। তবে লে. কর্নেল সালেহের নির্দেশে মেজর মনির তাকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করেন। মেজর মনির জানায়, পরে কর্নেল আলমাস রাইসুল গনি একটি রিপোর্ট তৈরি করেন, কিন্তু তা সরকারের পক্ষে না হওয়ায় তার অবস্থান দুর্বল হয়ে যায়। সাক্ষীদের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল হাকিম আজিজ ও মেজর মনির এপিসি নিয়ে পিলখানায় ঢোকেন। গেইট থেকে দুইশত গজ ভিতরে তারা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিককে দেখেন। এপিসি নিয়ে ঢোকার কারণে তারেক সিদ্দিক ব্রিগেডিয়ার হাকিমকে তীব্র গালিগালাজ করেন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পিলখানায় বিদ্রোহী জওয়ানদের হামলায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। এই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।