নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে। বুধবার পিলখানায় বিজিবির ৫ ব্যাটালিয়ন মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কেন্দ্রিক মক এক্সারসাইজ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, “আজ খুব সুন্দর একটি মহড়া দেখলাম। নির্বাচনে যেসব ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, সবকিছু বিবেচনায় রেখে বিজিবি প্রশিক্ষণ দিয়েছে-এতে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।” তিনি জানান, নির্বাচনসংক্রান্ত দায়িত্ব নিয়মিত না আসায় প্রতি নির্বাচনের আগে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও বিডিবি-সব বাহিনীই নিজ নিজ সদস্যদের বিশেষ প্রস্তুতি দিচ্ছে। সিইসি আশা প্রকাশ করেন, “এই প্রশিক্ষণ নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ১৩ কোটি ভোটারের সহযোগিতায় আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারব।”
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমি বলছি না যে আইনশৃঙ্খলা পারফেক্ট পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর তুলনায় অনেক উন্নতি হয়েছে। ভোটের সময় ঘনিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে। ৩০ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আরেক দফা বৈঠকে চূড়ান্ত মোতায়েন পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি। সিইসি বলেন, “পুলিশকে চাইলে ব্যক্তি পর্যায়ে মোতায়েন করা যায়, কিন্তু সেনাবাহিনীকে কন্টিনজেন্ট আকারে ডেপ্লয় করতে হয়। তাই তাদের মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত যথাযথ বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হবে।”
একটি দলের নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন- “যারা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিক, ভোটার, সাধারণ মানুষ-সবাইকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতা করতে হবে।” ঝুঁকি নির্ধারণে কেন্দ্রগুলোকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন-এই তিন জোনে ভাগ করা হয়েছে বলে জানান সিইসি। সে অনুসারে বাহিনী মোতায়েন হবে। বিজিবি জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সারাদেশে তাদের ১২১০ প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। সন্দীপ, হাতিয়া ও কুতুবদিয়া ছাড়া সব উপজেলায় বিজিবি থাকবে। সীমান্তবর্তী ১১৫ উপজেলারের মধ্যে ৬০টিতে তারা এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
মক এক্সারসাইজ পরিদর্শনে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।