বিনোদন ডেস্ক :
বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত প্রেমের গল্পগুলোর একটি ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর সম্পর্ক। সময়ের সঙ্গে বহু গুঞ্জন স্তিমিত হয়েছে, কিন্তু তাঁদের প্রেম এখনো রয়ে গেছে উপাখ্যানের মতো। সম্প্রতি ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর আবারও আলোচনায় এসেছে তাঁদের সম্পর্কের বহু অজানা অধ্যায়। হেমা মালিনী তাঁর আত্মজীবনী ‘হেমা মালিনী: বিয়ন্ড দ্য ড্রিম গার্ল’–এ লিখেছেন, এক অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠতে গিয়ে শুনেছিলেন ধর্মেন্দ্র শশী কাপুরকে বলছেন—“মেয়েটা খুব সুন্দর।” সেদিনই তাঁকে পরিচয় করানো হয় “ড্রিম গার্ল” হিসেবে। দুই তারকার সামনে দাঁড়িয়ে সেই মুহূর্তে তিনি ভীষণ অস্বস্তিতে পড়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
১৯৭০ সালে ‘তুম হাসিন ম্যায় জওয়ান’ ছবির সেট তাঁদের আরও কাছাকাছি আনে। তখন ধর্মেন্দ্র দুই ছেলের বাবা; তবু হেমার উপস্থিতিতে তিনি অনুভব করেন এক অন্য টান। পরে হেমা বলেন, “ধর্মেন্দ্রকে দেখেই বুঝেছিলাম, জীবনের সঙ্গী হিসেবে এমন মানুষই চাই।” দুজন মিলে করেছেন ৪২টি সিনেমা—শোলে, সীতা অউর গীতা, নসীব, আন্ধা কানুন—সবখানেই তাঁদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করে। ধর্মেন্দ্র ১৯৫৭ সালে প্রকাশ কৌরকে বিয়ে করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ায় অভিনেত্রী অনীতা রাজের সঙ্গেও, যা সংসারে টানাপোড়েন তৈরি করে। বিষয়টি জানার পর হেমা কষ্ট পান এবং ধর্মেন্দ্রকে সিদ্ধান্তমূলক হতে বলেন। শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র অনীতা রাজ থেকে দূরত্ব তৈরি করেন। অনীতা পরে ১৯৮৬ সালে পরিচালক সুনীল হিঙ্গোরানিকে বিয়ে করেন।
হেমার পরিবার দ্বিধায়, প্রকাশ কৌর বিচ্ছেদে রাজি নন—ফলে আইনি জটিলতায় হিন্দু রীতিতে বিয়ে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাতে আটকে যায় পাঁচ বছরের প্রেম। শেষমেশ দুজনই সিদ্ধান্ত নেন ধর্মান্তরের। ধর্মেন্দ্র ইসলাম গ্রহণ করে নাম নেন দিলাওয়ার খান, হেমা মালিনী হন আইশা কয়েকজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে গোপনে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে দক্ষিণ ভারতীয় প্রথায় আবারো আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। ১৯৮১ সালে জন্ম নেয় তাঁদের প্রথম মেয়ে এশা দেওল, ১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় কন্যা আহানা।
১৯৮১ সালে স্টারডাস্ট–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রকাশ কৌর বলেন- “হেমাকে যে কোনো পুরুষই পছন্দ করে, আমিও জানি। ধর্মেন্দ্র হয়তো নিখুঁত স্বামী নন, কিন্তু অসাধারণ বাবা।” তিনি হেমাকে দোষারোপ করেননি; তবে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন- “হেমা যা করেছেন, আমি তাঁর জায়গায় থাকলে করতাম না। স্ত্রী ও মা হিসেবে আমি তা পারতাম না।”