জেডটিভি বাংলা ডেস্ক:
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যানাইন ইউনিটের তিন অভিজ্ঞ সদস্য—ফিন, কোরি ও স্যাম—দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর দায়িত্ব পালনের পর অবসরে যাচ্ছে। বয়সজনিত কারণে তাদের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় কুকুরগুলোকে নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএমপি।
২০১৬ সালে জঙ্গিবাদ দমনে বিস্ফোরক ও বিপজ্জনক বস্তু শনাক্তকরণে বিশেষায়িত কে-৯ ইউনিট গঠন করে ডিএমপি। যুক্তরাজ্য থেকে আনা ১০টি প্রশিক্ষিত কুকুরের মধ্যে ফিন, কোরি ও স্যাম ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এরা সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন ইউনিটের অধীনে বিভিন্ন অভিযান ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সুনাম অর্জন করেছে।
দীর্ঘ আট বছর ধরে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে কাজ করার পর অবসরে যাচ্ছে ফিন, করি ও স্যাম নামের তিনটি প্রশিক্ষিত কুকুর। বয়সের কারণে তাদের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এই কুকুরগুলোকে নিলামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগামী ২৫ নভেম্বর মিরপুর-১৪ পুলিশ লাইন্সের ক্যানাইন ইউনিট প্রাঙ্গণে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।ডিএমপির লজিস্টিকস শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবসায়ী, চুক্তিকারী ও কুকুরপ্রেমীদের এই নিলামে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
নিলামে ওঠা কুকুর তিনটির মধ্যে ফিন ও কোরি ল্যাব্রাডর প্রজাতির এবং স্যাম জার্মান শেফার্ড। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে তাদের জন্ম। ফিন হলো পুরুষ ল্যাব্রাডর, যার জন্ম ২০১৭ সালের ১০ই মার্চ। কোরি হলো স্ত্রী ল্যাব্রাডর এবং তার জন্ম একই বছরের ২৬শে ফেব্রুয়ারি।অন্য কুকুর স্যাম পুরুষ জার্মান শেফার্ড, যার জন্ম ২০১৭ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি।

যুক্তরাজ্য থেকে কেনা কুকুর। সংগৃহীত ছবি
২০১৬ সালে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বিস্ফোরক এবং বিপজ্জনক বস্তু শনাক্ত করার জন্য ডিএমপি ১০টি কুকুর নিয়ে বিশেষায়িত ক্যানাইন ইউনিট (কে-৯) গঠন করে।যুক্তরাজ্য থেকে আনা এই কুকুরগুলোর মধ্যে ছয়টি জার্মান শেফার্ড এবং চারটি ল্যাব্রাডর ছিল। সিটিটিসি’র স্পেশাল অ্যাকশন ইউনিটের সদস্য হিসেবে কুকুরগুলো দায়িত্ব পালন করেছে।
ডিএমপির সিটিটিসি’র স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নাজমুল হাসান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, পশুপ্রেমী অনেকেই এই ধরনের প্রশিক্ষিত কুকুর কেনেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দায়িত্ববান ব্যক্তিরাই কুকুরগুলো কিনবেন এবং ভালোভাবে তাদের দেখাশোনা করবেন।
ল্যাব্রাডর কুকুরের গড় আয়ু সাধারণত ১০ থেকে ১৪ বছর হয়ে থাকে।বড় জাতের হওয়ায় ৬ থেকে ৮ বছর বয়সেই এদেরকে বয়স্ক হিসেবে ধরা হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এদের শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, যেমন গাঁটের ব্যথা, স্থূলতা এবং ক্যানসারের ঝুঁকি। জার্মান শেফার্ডের ক্ষেত্রেও ৭-৮ বছর বয়সের পর একই ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। তবে ডিএমপির দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, ফিন, কোরি ও স্যাম – তিনটি কুকুরই বর্তমানে সুস্থ আছে।
এই কুকুরগুলোকে ইংল্যান্ডের আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করে কুকুরগুলোকে উচ্চমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা দেশে ফিরে এই কুকুরগুলোকে প্রশিক্ষণ দেন এবং ক্যানাইন স্কোয়াড পরিচালনার জন্য আরও ২৫ সদস্যকে প্রস্তুত করেন।