নিজস্ব প্রতিবেদক :
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হবে সোমবার, ১৭ নভেম্বর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রায়ের সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যাতে পুরো বিশ্ব এ বিচারকাজ দেখতে পারে। ঢাকায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় রায় প্রদর্শন করার আয়োজনও করা হয়েছে।
এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য দুইজন হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। রায় ঘোষণার জন্য ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেল দিন ধার্য করেছেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মামলার প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম ও ফারুক আহাম্মদ। আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন।
এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলতি বছরের ৩ আগস্ট থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রথম সাক্ষী হিসেবে খোকন চন্দ্র বর্মণ জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বীভৎসতার চিত্র তুলে ধরেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনা। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পরিমাণ ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠা, যার মধ্যে তথ্যসূত্র, প্রমাণাদি ও শহীদদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত। সর্বশেষ প্রসিকিউশনের দাবিতে শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়েছে। তবে সাবেক আইজিপি মামুনের ক্ষেত্রে বিচারক তাঁর স্বীকারোক্তির কারণে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিবেচনায় রাখা হচ্ছে, জুলাই গণহত্যার এই মামলায় এটি হবে প্রথম রায়, যা ঢাকার সাধারণ মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থাকবে।