January 8, 2026, 2:18 pm
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

দলিলে বাধা, সাভারে ঘুষে দলিল সেবা! সাব-রেজিস্ট্রার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

দলিলে বাধা, সাভারে ঘুষে দলিল সেবা! সাব-রেজিস্ট্রার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

জেডটিভি বাংলা ডেস্ক:

সাভার সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও দলিল বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই অফিসে মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া কোনো জমির রেজিস্ট্রি হয় না।

দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন নেতা, দালাল সিন্ডিকেট ও সাব-রেজিস্ট্রারের কথিত সহকারীর মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করা হয়। এসব টাকা থেকে একটি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করতে খরচ হলেও অধিকাংশই নিজের কাছে তুলে নেন সাব-রেজিস্ট্রার।

অভিযোগ রয়েছে, অফিসে আসা সাধারণ মানুষদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। “কাগজে সমস্যা আছে” বলে ভয় দেখিয়ে নেয়া হয় মোটা অংকের উৎকোচ। জমির সব কাগজ ঠিকঠাক থাকলেও ‘ফ্রেশ জমি’কে ‘ডোবা’, ‘নালা’ বা ‘পতিত’ হিসেবে দেখিয়ে নেয়া হয় বাড়তি ঘুষ।

সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে দলিলপ্রতি সহকারীর মাধ্যমে আদায় করা হয় অতিরিক্ত অর্থ। এসব টাকা ‘নাস্তা খরচ’, ‘ম্যানেজ ফি’ বা ‘সহযোগিতা’র নামে নিয়মিতভাবে তোলা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, এই ঘুষ বাণিজ্য শুধু সাব-রেজিস্ট্রারের একক প্রচেষ্টায় চলছে না। এতে জড়িত রয়েছে অফিসের ক্লার্ক, মোহরার, টিসি মোহরার ও অন্যান্য কর্মচারীরাও। কেউ ঘুষ দিতে রাজি না হলে তার কাজ আটকে দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন নিয়মিত দম্ভভরে বলেন, তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারবে না, কারণ তিনি “সব জায়গাতেই সিস্টেম করে” রেখেছেন।

বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তিনি প্রতিমাসে গড়ে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষের টাকা আদায় করেন। কোনো কোনো দিন এই অঙ্ক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যায়। এসব অবৈধ উপার্জনের একটি অংশ নিয়মিতভাবে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের দেওয়া হয় যাতে কেউ প্রশ্ন না তোলে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন অফিস শেষে সাব-রেজিস্ট্রার ঘুষের টাকা নিয়ে বাসায় ফেরেন। এই সময় দুর্নীতি দমন কমিশন গোপনে অভিযান চালালে তাকে হাতেনাতে ধরা সম্ভব। সচেতন মহল মনে করছে, তার অনৈতিক কার্যকলাপ রেজিস্ট্রেশন বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, একইসাথে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সাভারে বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে অনেকেই মনে করছেন, আইন মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইজিআর দপ্তরের উচিত দ্রুত এই কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের কার্যক্রমের তদন্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২০ সালে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার থাকা অবস্থায় মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আরও একটি বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেখানে দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রার সিন্ডিকেট করে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়। এমনকি আদালতে মামলা চলমান থাকা জমিও তিনি মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে রেজিস্ট্রি করে দেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় স্থানীয়ভাবে।

সেসময় স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম সেলিম এ বিষয়ে অভিযোগ করলে জমির প্রকৃত মূল্য অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়। যদিও তখনও সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন দাবি করেছিলেন, জমির মালিকরা ‘নাল’ জমির কাগজ জমা দিয়েছিল বলে ওইভাবে রেজিস্ট্রি করা হয় এবং মামলা চলমান থাকলেও জমি রেজিস্ট্রি করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন বারবার দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড অগ্রহণযোগ্য এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও অনিয়মে উৎসাহ পাবে দুর্নীতিপরায়ণ মহল।

সূত্রঃ প্রতিদিনের কাগজ

এমএলএম/জেডটিভি বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *