বিনোদন ডেস্ক :
বলিউডের একসময়ের আলোচিত খলনায়ক মহেশ আনন্দ— ৮০ ও ৯০–এর দশকের দর্শকরা যাকে চেনেন রূপালি পর্দার দুর্ধর্ষ ভিলেন হিসেবে। সিনেমায় তাঁর চোখের চাহনি ও ভয়ংকর উপস্থিতি এক সময় কাঁপিয়ে দিয়েছিল বলিউডকে। কিন্তু বাস্তব জীবনে এই তারকার গল্প ছিল একেবারেই অন্যরকম— নিঃসঙ্গতা, ব্যর্থতা আর অবসাদে ভরা এক জীবনের কাহিনি।ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সময় পেরিয়ে জীবনের শেষ দিকে মহেশ আনন্দ ভুগেছেন প্রচণ্ড দারিদ্র্য আর একাকিত্বে। শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেও জীবনের অন্তিম দিনে তাঁর কাছে ছিল না এমনকি পানির বোতল কেনার টাকাও। নিজের ফেসবুক পোস্টে একবার তিনি লিখেছিলেন, “আমার বন্ধুরা বলে আমি মদ্যপ। আমার কোনো পরিবার নেই। সৎভাই আমাকে ৬ কোটি রুপি প্রতারণা করে নিয়ে গেছে। আমি ৩০০–এর বেশি সিনেমায় কাজ করেছি, কিন্তু এখন পানির বোতল কেনারও টাকা নেই। পৃথিবীতে আমার কোনো বন্ধু নেই। খুব কষ্ট লাগে।”
মহেশ আনন্দ প্রথম আলোচনায় আসেন ‘শাহেনশাহ’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে। পরে ‘গুমরাহ’–এ সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে তিনি আরও জনপ্রিয়তা পান।
অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী ও কারাতে ব্ল্যাক বেল্টধারী এই তারকা প্রথমে মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৮২ সালে ‘সনম তেরি কসম’ ছবির শিরোনাম গানে ব্যাকগ্রাউন্ড ডান্সার হিসেবে দেখা যায় তাঁকে।
১৯৮৪ সালের ‘করিশমা’ দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করলেও, ‘শাহেনশাহ’ তাঁকে এনে দেয় আসল পরিচিতি। পরবর্তীতে তিনি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘গঙ্গা যমুনা সরস্বতী’ ও ‘তুফান’-এ, আবার সঞ্জয় দত্ত, গোবিন্দ, সালমান খান, সানি দেওল, অক্ষয় কুমারসহ বহু তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন। মোট কাজের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০-এরও বেশি চলচ্চিত্রে।
ক্যারিয়ারের সাফল্যের আড়ালে মহেশ আনন্দের ব্যক্তিগত জীবন ছিল নাটকীয় ও অস্থিরতায় ভরা। তিনি জীবনে পাঁচবার বিয়ে করেছেন এবং অন্তত এক ডজন প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। প্রথম স্ত্রী ছিলেন অভিনেত্রী রীনা রায়ের বোন বরখা রায়। এরপর বিয়ে করেন সাবেক মিস ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল এরিকা মারিয়া ডি’সুজাকে, তাঁদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। তৃতীয় বিয়ে করেন মধু মালহোত্রাকে ১৯৯৯ সালে। চতুর্থবার বিয়ে করেন অভিনেত্রী ঊষা বচ্চনিকে, কিন্তু সেই সম্পর্কও ভেঙে যায়। জীবনের শেষ প্রান্তে বিয়ে করেন এক রুশ নারী, লানাকে। বড় পর্দার ভয়ংকর খলনায়ক হয়েও জীবনের শেষ অধ্যায়টা কাটে নিঃশব্দে, প্রায় বিস্মৃত হয়ে। আলো, ক্যামেরা আর করতালির জগৎ থেকে সরে গিয়ে একাকী, অভিমানভরা মৃত্যুই ছিল তাঁর চূড়ান্ত পরিণতি।