নিজস্ব প্রতিবেদক :
৮৫৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলার অন্যতম আসামি, এক্সিম ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের সহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজ নেতৃত্বে একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ তথ্য ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, আজই তাকে আদালতে হাজির করা হবে। ২০১৪ সালের ১৭ আগস্ট দুদক এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে এক্সিম ব্যাংকের ৮৫৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে। এর আগে, মামলার অপর আসামি নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর গুলশান থেকে ডিবি গ্রেপ্তার করেছিল। আজ ফের আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:
মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটসের প্রোপ্রাইটর মোজাম্মেল হোসাইন,এক্সিম ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. আসাদ মালেক, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জেবুন্নেসা বেগম, ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অফিসার কাওসার আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আরমান হোসেন, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আনিছুল আলম, অ্যাডিশনাল ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ইছরাইল খান ও মো. মঈদুল ইসলাম, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাকসুদা খানম ও মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া,সাবেক অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহ মো. আব্দুল বারি, সাবেক অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিএফও মো. হুমায়ুন কবীর, সাবেক পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন,সাবেক পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ, পরিচালক মো. নুরুল আমিন, অঞ্জন কুমার সাহা, সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক নাজমুস ছালেহিন এবং মিয়া মোহাম্মদ কাওছার আলম।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ‘মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটস’ শাখার ঋণ প্রস্তাব যাচাই না করে, স্টক রিপোর্ট ছাড়াই এবং জামানতের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন না করে, আসামিরা যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদনের সুপারিশ করেন। তারা ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও সভাপতি হিসেবে বোর্ড অনুমোদনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) ধারা, এবং ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।