স্পোর্টস ডেস্ক :
২৮ বছর পর ২০১১ সালে শচীন টেন্ডুলকারের হাত ধরে ভারত পুরুষদের বিশ্বকাপ জিতেছিল। সেই সময় তিনি ছিলেন দলের প্রাণভোমরা, রান মেশিন, অনুপ্রেরণার প্রতীক। আজ তিনি অবসর নিয়েছেন, কোচিংয়েও নেই—তবু ভারতীয় ক্রিকেটে তার প্রভাব এখনো অমলিন। এবারের নারী বিশ্বকাপেও তার অবদান ছিল নীরব কিন্তু গভীর। ভারতের তরুণ ওপেনার শেফালি ভার্মা জানিয়েছেন, ফাইনালের আগে ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে দেখা করাই তার আত্মবিশ্বাসকে একদম নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফাইনালে তার ৮৭ রানের ইনিংসেই ভারত পায় ইতিহাস গড়া জয়, প্রথম নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ শিরোপা।
শেফালি জানান, “যখন আমি তাকে (শচীন) দেখলাম, তখন ভেতরে এক অদ্ভুত শক্তি অনুভব করছিলাম। তিনি বারবার বলছিলেন—নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো, শান্ত থেকো। তিনি ক্রিকেটের মাস্টার, তাকে দেখলেই অনুপ্রেরণা আসে।” মাত্র এক সপ্তাহ আগেও বিশ্বকাপ দলে ছিলেন না শেফালি। নিয়মিত ওপেনার প্রতীকা রাওয়ালের ইনজুরির কারণে সুযোগ পান তিনি। আর সেই সুযোগেই ভাগ্য উল্টে দেন ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ব্যর্থতা কাটিয়ে ফাইনালে শেফালি খেলেন জীবনের সেরা ইনিংস। শুধু ব্যাট নয়, বল হাতেও অবদান রাখেন তিনি—অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌরের আস্থায় বোলিংয়ে এসে নেন দুই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।হারমানপ্রিত বলেন, “আমি জানতাম ঝুঁকি আছে, কিন্তু ওর আত্মবিশ্বাস দেখেই মনে হয়েছিল, এটা সঠিক সিদ্ধান্ত। আর যখন ও টানা দুই উইকেট নেয়, তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।”
অবশেষে শিরোপা হাতে নিয়ে শেফালির কণ্ঠে ভেসে ওঠে তৃপ্তির সুর, “এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কঠিন সময় গেছে, কিন্তু আমি নিজের ওপর ভরসা রেখেছিলাম। দলের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম, সেটাই করতে পেরেছি। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন।”