নিজস্ব প্রতিবেদক :
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বর্গভূমি। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো—ভারত ও মায়ানমার—এ ব্যাপারে একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এখানে সংঘাত থাকলেও তা রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক নয়।” শনিবার লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খালিদ বলেন, “আমরা বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে বেড়ে উঠেছি, একসাথে পড়াশোনা করেছি ও কাজ করেছি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও আমরা একসাথে যুদ্ধ করেছি। এই দেশ আমাদের সবার। প্রত্যেকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “যে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নেই, সেখানে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না, পর্যটকও আগমন করবে না। তাই সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশের উন্নয়নের জন্য একসাথে কাজ করতে হবে।”
লালমনিরহাটকে সম্প্রীতির উর্বর ভূমি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “এখানে মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় কোনো বিবাদ নেই। এই পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে হবে। এছাড়া মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাংসহ সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।” বিগত ১৭ বছরে উন্নয়নের কমতি নিয়ে তিনি বলেন, “আগামী সংসদ নির্বাচনে এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করুন, যিনি লালমনিরহাটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। আমরা অভিযোগ শুনতে চাই না, কাজ দেখতে চাই।”
হাদীস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “মহানবী (সা.) যুদ্ধের সময়ও নারী, শিশু বা উপাসনালয়ে থাকা মানুষদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।” অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক, জামায়াতে ইসলামের জেলা নায়েবে আমির মো. হাবিবুর রহমান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এইচ এম বরকতুল্লাহ।