January 13, 2026, 6:35 am
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

কক্সবাজার বিমানবন্দর: আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুতি শেষ, শুরু কখন ও কোন গন্তব্যে?

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সমুদ্রের ওপর নির্মিত বিশেষ রানওয়ের জন্য আলোচিত কক্সবাজার বিমানবন্দরকে সরকার দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করেছে। যদিও এর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রা কখন এবং কোন গন্তব্যে শুরু হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কক্সবাজার-ঢাকা-কলকাতা রুট নিয়ে কিছু আলোচনা থাকলেও তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কোনো এয়ারলাইনস এখনও কক্সবাজার বিমানবন্দর ব্যবহারের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেনি। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনগুলোর কাছ থেকেও যথেষ্ট সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

আন্তর্জাতিক যাত্রীপ্রবাহ নিয়ে অনেক এয়ারলাইনস উদ্বিগ্ন, যদিও রোহিঙ্গা শিবির সংলগ্ন বিভিন্ন সংস্থার কাজে বিদেশিরা কক্সবাজারে যাতায়াত করেন।

বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তুজা হোসাইন জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দর সব প্রস্তুতি শেষ করেছে এবং কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো সময় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু করতে পারে।

তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্টে কক্সবাজার অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরগুলোর নাম রয়েছে, কিন্তু কক্সবাজারের নাম এখনও নেই। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসেরা যাত্রী ও কার্গো সুবিধা বিবেচনা করে কক্সবাজার থেকে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেবে।

বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দর দৈনিক প্রায় ১৫০০-২০০০ যাত্রী পরিবহন করছে। নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবনের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, যা চালু হলে বছরে ১৮ লাখ যাত্রী সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গত ১২ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক ঘোষণা করেছে। তবে ১১ হাজার বর্গফুটের নতুন টার্মিনাল ভবনের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

এটিএম নজরুল ইসলাম নামে এক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, সিকিউরিটি, পৃথক যাত্রী আগমন ও বহির্গমন ব্যবস্থা, কার্গো সুবিধাসহ বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক। এসব না থাকলে আন্তর্জাতিক সনদ পাওয়া সম্ভব নয়।

অন্য বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, দীর্ঘতম রানওয়ে, রিফুয়েলিং সুবিধা, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এসব প্রস্তুতি বিমানবন্দর সম্পন্ন করেছে বলে জানানো হয়েছে।

২০২১ সালে শুরু হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬৭৭৫ ফুট থেকে ৯০০০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া সমুদ্রের ভেতরে রানওয়ে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করার কাজও প্রায় শেষ।

এই বছর মার্চে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পরিদর্শনে জানতে পারেন, আন্তর্জাতিক বিমান চালুর পর দিনে ৪০-৫০টি ফ্লাইট পরিচালনা হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও কাজ শেষে ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকার কথা ছিল, অক্টোবরেই সরকার আন্তর্জাতিক ঘোষণা দিয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বসরা ইসলাম জানান, বিমানবন্দর চালু হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সও কক্সবাজার-ঢাকা-ব্যাংকক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব দেয়নি।

এয়ার অ্যাস্ট্রার সিইও ইমরান আফিস বলেন, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ বা উন্নয়ন সাধারণত যাত্রীসংখ্যার ওপর নির্ভর করে হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক এয়ার সার্ভিস এগ্রিমেন্টে কক্সবাজারের নাম অন্তর্ভুক্ত না হলে এয়ারলাইনসগুলো আগ্রহ দেখাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *