April 6, 2026, 11:54 pm
Headline :
বিজয়নগরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক দুর্নীতি আর অনিয়মের কারিগর শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলাম। পদিপাড়া বাজার মসজিদে অনিয়মের প্রশ্নে সাংবাদিককে হুমকি: স্থানীয়দের ক্ষোভ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে মির্জা এন এইচ রুবেল-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা ‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন ‎সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ ‘নানা ভাই’ বাহিনীর কবল থেকে ৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড মোংলা বন্দরে ভারত থেকে ১৬ হাজার টন চাল নিয়ে দুই জাহাজের আগমন নোয়াখালী-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে আল আমিন ইসলামী ফাউন্ডেশনের মোংলায় কোস্টগার্ড সদস্যের বুকে গুলি চালিয়ে  আত্মহত্যা সংসদে মাইক বিভ্রাট, ২০ মিনিটের বিরতির পর পুনরায় অধিবেশন শুরু

নওগাঁয় স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নওগাঁয় স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক,

নওগাঁয় স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য হত্যা করার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১।

আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আসামছ জগলুল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৭ সালে নওগাঁর মান্দা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মো. আনিছুর রহমান সাকিদারের মেয়ে মোছা. রাণী বেগমের সঙ্গে নিয়ামতপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বিয়ে হয়।

বিয়ের সময় নগদ ৪০ হাজার টাকা, একটি ভ্যান গাড়ি ও একটি সেলাই মেশিন যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

স্ত্রীর পিত্রালয়ে ফিরে যাওয়া ও পরে দ্বিতীয়বার পুনরায় বিয়ের পরও চলতে থাকে যৌতুকের দাবি। সর্বশেষ তিনি ভটভটি কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে সম্মতি না দেওয়ায় ২০১৫ সালের ১০ আগস্ট রাতে নিজ ঘরে কাঠের খাটিয়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে স্ত্রী রাণী বেগমকে নির্মমভাবে হত্যা করেন তিনি।

পরদিন নিহতের বাবা মো. আনিছুর রহমান নিয়ামতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় গৃহীত হয় (মামলা নম্বর- ১১১/২০১৬)। মামলার তদন্ত করে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. ইকবাল জামিল চৌধুরী (লাকি)। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অমরেন্দ্রনাথ ঘোষ।

সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রায়ে বলেন, “আসামি মোস্তাফিজুর রহমান স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এ অপরাধের একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।”

আদালত রায়ে আরও বলেন, আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন এবং সেই অর্থ রাণী বেগমের পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

একইসঙ্গে আসামিকে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *