নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে সাংবাদিক গুলজার হানিফকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকাল ১১টার দিকে বাইপাস চত্বরে উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের ওপর হুমকি শুধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত। সাংবাদিকরা সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বক্তারা আরও বলেন, সারাদেশে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। অধিকাংশ ঘটনায় বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা জানান, জাতীয় দৈনিক আমাদের সময় এর সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফ একটি হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি পেয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি গত ২৫ এপ্রিল সোনাইমুড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। এসময় প্রশাসনের ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়।
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হুমকিদাতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কাফনের কাপড় পরে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।
প্রসঙ্গত, পার্শ্ববর্তী চাটখিল উপজেলায় ইটভাটা ব্যবসায়ী জাবেদ হোসেন হত্যাকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। নিহতের পরিবার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করলে তা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দিতে থাকে বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, হুমকিদাতা মো. রুবেল নিজেকে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পরিচয় দিয়ে সাংবাদিক হানিফকে ফোনে বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তোকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।” এসময় বিভিন্ন অশালীন ভাষায় গালিগালাজও করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
এ বিষয়ে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাইমুড়ী থানার এএসআই রেজাউল ইসলাম জানান, হুমকিদাতাকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তকে শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।