March 7, 2026, 4:21 am
Headline :
হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা: বৈশ্বিক মন্দার মুখে বিশ্ব অর্থনীতি! দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের: আসছে ‘অদৃশ্য’ শক্তিশালী নতুন অস্ত্র ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভয়াবহ বিমান হামলা: নিহত ২০, প্রাণহানি ছাড়ালো ১৩০০ সিদ্ধিরগঞ্জে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা! জিয়া সৈনিক দলের ওয়ার্ড সভাপতিকে মারধর ও হত্যার হুমকি, অভিযুক্ত ‘আওয়ামী দোসর’ চাঁদাবাজরা ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান: ইসরাইল-মার্কিন হামলায় সরকারের পাশেই ইরানি জনগণ মধ্যপ্রাচ্যে বিধ্বংসী যুদ্ধ: মার্কিন হামলায় ডুবেছে ইরানি রণতরী, ৮৭ জনের মৃত্যু ইরান যুদ্ধ স্থায়ী হতে পারে ৮ সপ্তাহ: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চাঞ্চল্যকর দাবি ঈদুল ফিতরে টানা ১২ দিন ছুটির হাতছানি: ১৮ মার্চও সরকারি ছুটি ঘোষণা ইবি শিক্ষিকা সাদিয়া হত্যাকাণ্ড: বদলি নিয়ে ক্ষোভ থেকেই কি এই নৃশংসতা? কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ সুন্দরবনের বনদস্যু আটক

হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা: বৈশ্বিক মন্দার মুখে বিশ্ব অর্থনীতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ZTV Bangla | শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ত্রিমুখী উত্তেজনা আর কেবল কূটনৈতিক বাদানুবাদে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের রূপরেখা তৈরি করছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এক হাজারেরও বেশি ড্রোন এবং কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে নজিরবিহীন পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির ‘প্রাণভোমরা’ এখন হুমকির মুখে

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’র মাধ্যমে। সম্প্রতি অন্তত ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর এই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল বর্তমানে প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ইরান ইতিমধ্যেই অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে, “এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে”। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রণালীটি দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল হয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অপূরণীয় ধস নামবে এবং বিশ্ব দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবিত হবে।

ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা

ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, তেহরান বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১০,০০০ ড্রোন তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে তাদের ‘শাহেদ ১৩৬’ ড্রোনগুলো অত্যন্ত নিভৃতে ৭০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার দূরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

এছাড়াও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে তৈরি হয়েছে এক ধরণের তথ্যের ঘাটতি। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী ইরানের কাছে ২,৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র থাকলেও নিরপেক্ষ বিশ্লেষকদের ধারণা এই সংখ্যাটি ৬,০০০ পর্যন্ত হতে পারে।

সমুদ্র মাইন: এক নীরব বিধ্বংসী কৌশল

সরাসরি সংঘাতের বাইরেও ইরানের কাছে ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ সমুদ্র মাইন মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি ইরান এই মাইনগুলো সমুদ্রপথে বিছিয়ে দেয়, তবে সেই নৌপথ পরিষ্কার করে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থবির করে দেবে।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে?

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ না হলেও কয়েকটি তেলের ট্যাংকারে সফল হামলা বিশ্ববাজারে ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে দেবে। এর ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে যে অচলাবস্থা তৈরি হবে, তা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের জন্ম দেবে। এখন প্রশ্ন হলো, বিশ্ব শক্তিগুলো কি কূটনীতির মাধ্যমে এই সংকট নিরসন করতে পারবে, নাকি এই উত্তাপ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আমূল বদলে দেবে?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *