অনলাইন ডেস্ক | জেডটিভি বাংলা প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০২৬
আজ ১৭ রমজান, মুসলিম উম্মাহর নিকট এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবময় দিন—ঐতিহাসিক বদর দিবস। হিজরি দ্বিতীয় সনের এই দিনে (১৩ মার্চ ৬২৪ খ্রিস্টাব্দ) মদিনা থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণে বদর প্রান্তরে ইসলামের প্রথম বৃহৎ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। ইতিহাসের এই মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া দিনটি আজ বিশ্বজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করা হচ্ছে।
ইসলামের ইতিহাসের এই প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধে একদিকে ছিল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন স্বল্প সজ্জিত সাহাবীর এক ক্ষুদ্র বাহিনী। অন্যদিকে মক্কার কুরাইশদের পক্ষে ছিল আবু জাহেলের নেতৃত্বে এক হাজার সুপ্রশিক্ষিত ও আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত বিশাল সৈন্যদল।
মুসলিম বাহিনীর সম্বল ছিল মাত্র দুটি ঘোড়া ও ৭০টি উট। কিন্তু সমর সরঞ্জাম ও সৈন্য সংখ্যায় দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও, ঈমানি বল ও মহান আল্লাহর বিশেষ সাহায্যে মুসলমানরা এক অভাবনীয় বিজয় অর্জন করেন। পবিত্র কোরআনেও এই সাহায্যের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে:
“এর আগে বদরের যুদ্ধে আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছিলেন অথচ তখন তোমরা অনেক দুর্বল ছিলে।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১২৩)।
যুদ্ধের আগের রাতে মহানবী (সা.) অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে আল্লাহর দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “হে দয়াময় আল্লাহ! এ যুদ্ধে আমরা তোমার সাহায্য ছাড়া বিজয় লাভ করতে পারব না। তুমি আমাদের বিজয় দান করো”।
বদর প্রান্তরে কুরাইশদের দম্ভ মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত মক্কার ৭০ জন সৈন্য নিহত এবং ৭০ জন বন্দি হয়। অন্যদিকে, ইসলামের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়ে মাত্র ১৪ জন সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন।
বদর যুদ্ধের বিজয় কেবল একটি সামরিক জয় ছিল না, এটি ছিল মদিনার ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করার মহান সোপান। এই দিনটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে—ঈমান, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর অটল ভরসা থাকলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিজয় লাভ সম্ভব।
প্রতি বছরের মতো এবারও জেডটিভি বাংলা পরিবারের পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও বদরের শহীদদের মাগফেরাত কামনা করা হচ্ছে।