আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৭ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ঢেউ এবার চীনের উপকূলে লাগতে শুরু করেছে। দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব এবং কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে এখন গভীর হিসেব-নিকেশ করছে বেইজিং।
মূল সংকট যেখানে: বর্তমানে বেইজিংয়ে দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির বার্ষিক সম্মেলন চলছে। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দা, আবাসন সংকট এবং ঋণের চাপের মুখে থাকা চীন আশা করেছিল রপ্তানি বাড়িয়ে সংকট কাটিয়ে উঠবে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা চীনের জ্বালানি সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে চীনের বড় অংশের জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত হবে।
ইরানের সাথে সম্পর্ক: বন্ধু না কি লেনদেন? যদিও ইরানকে চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হয়, তবে বিশ্লেষকদের মতে এই সম্পর্ক মূলত ‘লেনদেনভিত্তিক’। ২০২১ সালে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তিতে ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার খুব সামান্যই কার্যকর হয়েছে। তবে চীন এখনো ইরানের তেলের বড় ক্রেতা। ২০২৫ সালের তথ্যমতে, চীনের মোট তেল আমদানির ১২ শতাংশ আসে ইরান থেকে।
সামরিক সীমাবদ্ধতা: ভেনেজুয়েলা বা বর্তমানের ইরান সংকট—উভয় ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বেইজিং মূলত ‘দর্শকের’ ভূমিকায় ছিল। সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে গিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, চীন এখনো সেই সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানালেও সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো সংকেত দেয়নি বেইজিং।
ট্রাম্পের সফর ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: চলতি মাসের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের অবস্থান এবং বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করবে চীন। বেইজিং নিজেকে একজন ‘স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য’ বিশ্বনেতা হিসেবে তুলে ধরে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মত: লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক কেরি ব্রাউনের মতে, চীন চায় না বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্রের ইশারায় চলুক, কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘অস্থির আচরণ’ এবং অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও চরম অস্বস্তিতে রয়েছে।