March 7, 2026, 8:10 am
Headline :
মধ্যস্থতার প্রস্তাবে সাড়া দিলেও সার্বভৌমত্বে আপস নয়: ইরানি প্রেসিডেন্ট ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে চীনের দোটানা: অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সংকটে বেইজিং হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা: বৈশ্বিক মন্দার মুখে বিশ্ব অর্থনীতি! দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের: আসছে ‘অদৃশ্য’ শক্তিশালী নতুন অস্ত্র ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভয়াবহ বিমান হামলা: নিহত ২০, প্রাণহানি ছাড়ালো ১৩০০ সিদ্ধিরগঞ্জে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা! জিয়া সৈনিক দলের ওয়ার্ড সভাপতিকে মারধর ও হত্যার হুমকি, অভিযুক্ত ‘আওয়ামী দোসর’ চাঁদাবাজরা ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান: ইসরাইল-মার্কিন হামলায় সরকারের পাশেই ইরানি জনগণ মধ্যপ্রাচ্যে বিধ্বংসী যুদ্ধ: মার্কিন হামলায় ডুবেছে ইরানি রণতরী, ৮৭ জনের মৃত্যু ইরান যুদ্ধ স্থায়ী হতে পারে ৮ সপ্তাহ: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চাঞ্চল্যকর দাবি ঈদুল ফিতরে টানা ১২ দিন ছুটির হাতছানি: ১৮ মার্চও সরকারি ছুটি ঘোষণা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে চীনের দোটানা: অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সংকটে বেইজিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ঢেউ এবার চীনের উপকূলে লাগতে শুরু করেছে। দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব এবং কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে এখন গভীর হিসেব-নিকেশ করছে বেইজিং।

মূল সংকট যেখানে: বর্তমানে বেইজিংয়ে দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির বার্ষিক সম্মেলন চলছে। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দা, আবাসন সংকট এবং ঋণের চাপের মুখে থাকা চীন আশা করেছিল রপ্তানি বাড়িয়ে সংকট কাটিয়ে উঠবে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা চীনের জ্বালানি সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে চীনের বড় অংশের জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত হবে।

ইরানের সাথে সম্পর্ক: বন্ধু না কি লেনদেন? যদিও ইরানকে চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হয়, তবে বিশ্লেষকদের মতে এই সম্পর্ক মূলত ‘লেনদেনভিত্তিক’। ২০২১ সালে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তিতে ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার খুব সামান্যই কার্যকর হয়েছে। তবে চীন এখনো ইরানের তেলের বড় ক্রেতা। ২০২৫ সালের তথ্যমতে, চীনের মোট তেল আমদানির ১২ শতাংশ আসে ইরান থেকে।

সামরিক সীমাবদ্ধতা: ভেনেজুয়েলা বা বর্তমানের ইরান সংকট—উভয় ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বেইজিং মূলত ‘দর্শকের’ ভূমিকায় ছিল। সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে গিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, চীন এখনো সেই সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানালেও সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো সংকেত দেয়নি বেইজিং।

ট্রাম্পের সফর ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: চলতি মাসের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের অবস্থান এবং বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করবে চীন। বেইজিং নিজেকে একজন ‘স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য’ বিশ্বনেতা হিসেবে তুলে ধরে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মত: লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক কেরি ব্রাউনের মতে, চীন চায় না বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্রের ইশারায় চলুক, কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘অস্থির আচরণ’ এবং অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও চরম অস্বস্তিতে রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *