ইরানের ফারস প্রদেশের ঐতিহাসিক শহর শিরাজের একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই রক্তক্ষয়ী হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। হামলায় অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন।
ফারস প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর জলিল হাসানি জানিয়েছেন, শহরের জিবাসহর এলাকার একটি আবাসিক ব্লককে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তিনি এই ঘটনাকে ‘নিরপরাধ নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিত গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। হামলায় হতাহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে দুইজন প্যারামেডিক (জরুরি চিকিৎসা কর্মী) প্রাণ হারিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান আজ সপ্তম দিনে পদার্পণ করেছে। গত সাত দিনের টানা হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা এক লাফে অনেক বেড়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট ১,৩৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তেহরানসহ বিভিন্ন বড় শহরে এখনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে।
এদিকে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে ইসরাইলেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। ‘টাইমস অব ইসরাইল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৪০ জন আহত ইসরাইলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলে মোট ১,৬১৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮৭ জন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে পুনরায় হামলার দাবি করেছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল, আল জাজিরা ও রয়টার্স।