April 7, 2026, 6:52 am
Headline :
বিজয়নগরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক দুর্নীতি আর অনিয়মের কারিগর শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলাম। পদিপাড়া বাজার মসজিদে অনিয়মের প্রশ্নে সাংবাদিককে হুমকি: স্থানীয়দের ক্ষোভ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে মির্জা এন এইচ রুবেল-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা ‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন ‎সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ ‘নানা ভাই’ বাহিনীর কবল থেকে ৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড মোংলা বন্দরে ভারত থেকে ১৬ হাজার টন চাল নিয়ে দুই জাহাজের আগমন নোয়াখালী-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে আল আমিন ইসলামী ফাউন্ডেশনের মোংলায় কোস্টগার্ড সদস্যের বুকে গুলি চালিয়ে  আত্মহত্যা সংসদে মাইক বিভ্রাট, ২০ মিনিটের বিরতির পর পুনরায় অধিবেশন শুরু

জামায়াতের ইশতেহার কেবলই স্লোগান, নেই অর্থায়নের রূপরেখা: ড. ফাহমিদা খাতুন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহারকে কেবল কিছু ‘ভালো ভালো কথা’ ও ‘স্লোগানের সংকলন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ইশতেহারে বড় বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সেগুলো বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা (টাইমলাইন) এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়নের কোনো উৎস উল্লেখ করা হয়নি।

সম্প্রতি ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর সাথে আলাপকালে জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করে এসব কথা বলেন এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ।

ইশতেহারের ভাষা ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন

ড. ফাহমিদা খাতুন ইশতেহারের উপস্থাপনা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “অবাক করার বিষয় হলো, জামায়াতের এই ইশতেহারে ‘ইসলাম’ শব্দটিরই উল্লেখ নেই। আধুনিক তরুণ-তরুণীদের ছবি ব্যবহার করে তারা কি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।”

অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা: স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা

জামায়াত তাদের ইশতেহারে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের ২০তম অর্থনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে। এ প্রসঙ্গে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “২ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে হলে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি কেবল অর্জন করলেই হবে না, তা দীর্ঘকাল ধরে রাখতে হবে। কিন্তু বিদ্যমান অস্পষ্ট রূপরেখা দিয়ে এই বিশাল অর্জন সম্ভব নয়।”

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ঘাটতি

ইশতেহারে মাথাপিছু গড় আয় ১০ হাজার ডলারে উন্নীত করা এবং ৭ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিনিয়োগের উৎস নিয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ফাহমিদা খাতুন জানান:

  • জিডিপির ২০ শতাংশ সরকারি বিনিয়োগ ও ১৫ বিলিয়ন ডলার এফডিআই-এর কথা বলা হয়েছে।
  • তবে কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি ‘বেসরকারিখাতের বিনিয়োগ’ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নেই।
  • ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ১৪ শতাংশ করার কথা বলা হলেও তার কোনো কর্মপরিকল্পনা দেওয়া হয়নি।

তথ্যের অসংগতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

বেকারত্বের হার নিয়ে জামায়াতের দেওয়া তথ্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। জামায়াত বেকারত্ব ‘ডাবল ডিজিট’ থেকে ‘সিঙ্গেল ডিজিটে’ নামানোর কথা বললেও বিবিএস-এর হিসেবে বর্তমানে বেকারত্ব ৪ শতাংশের নিচে। এছাড়া আগামী ৫ বছরে রপ্তানি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনাকে বর্তমান বিশ্ব বাণিজ্যের জটিল পরিস্থিতিতে অবাস্তব বলে মনে করেন তিনি।

ড. ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ তিনগুণ করার কথা বলা হলেও, এই বর্ধিত অর্থ ঠিক কবে থেকে বরাদ্দ করা হবে সে বিষয়ে ইশতেহার নীরব।

সামগ্রিকভাবে, জামায়াতের ৩০ শতাংশ আমদানি প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনাকে ‘বাস্তবায়ন অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি পরামর্শ দেন যে, যেসব পণ্য আমদানিতে সুবিধা বেশি সেগুলো উৎপাদনের চেষ্টা না করে দেশের প্রকৃত সক্ষমতা আছে এমন খাতে জোর দেওয়া উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *