আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র যে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, তা নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ইউক্রেন ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত আলোচনায় পরিকল্পনার কয়েকটি জটিল ইস্যুতে মতপার্থক্য কমে এসেছে। তবে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে সমাধান বাকি রয়ে গেছে।
সোমবার আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দফার শান্তি প্রস্তাবে “অসাধারণ অগ্রগতি” দেখা গেছে। বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও তিনি বলেন, “আমরা সত্যিই অনেক দূর এগিয়েছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে এগোতে পারব বলে আমি আশাবাদী।”
রুবিও আরও জানান, ন্যাটোর ভূমিকা ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো কয়েকটি বিষয়ে এখনও আলোচনা বাকি। তারপরও সার্বিকভাবে পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে সমঝোতা তৈরির পথে অগ্রগতি হয়েছে। ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান আন্দ্রি ইয়ারমাকও জানান, আলোচনায় “খুব ভালো অগ্রগতি” হয়েছে এবং তারা “ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির দিকে এগোচ্ছেন”।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার পর ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে শুরু করেছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার মূল্যায়ন করছে না। এরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে (টুইটার) পোস্ট করে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান, উল্লেখ করেন যে মার্কিন সহায়তা “ইউক্রেনের প্রাণ বাঁচাচ্ছে”। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুব শিগগিরই জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।
রুবিওর মতে, এটি এখনও একটি “পরিবর্তনশীল নথি”, যার সংশোধন চলমান থাকবে। চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পর পরিকল্পনাটি মস্কোকেও উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, “স্পষ্টতই রাশিয়ারও মতামত থাকবে।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির “ভিত্তি” হতে পারে। তবে ইউক্রেন আলোচনায় অনীহা দেখালে আরও ভূখণ্ড দখলের হুমকিও দেন তিনি।