January 9, 2026, 10:25 am
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

চট্টগ্রাম কারাগার গেইটে টাকা বাণিজ্য: সায়েমের মুক্তিকে ঘিরে তোলপাড়

চট্টগ্রাম কারাগার গেইটে টাকা বাণিজ্য: সায়েমের মুক্তিকে ঘিরে তোলপাড়

জেডটিভি বাংলা ডেস্ক:

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নির্বাহী সদস্য আবু সাদাত মো. সায়েমের জামিনে মুক্তিকে ঘিরে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জেল সুপার, জেলার ও ডেপুটি জেলারকে সাত লাখ টাকায় “ম্যানেজ” করে কারাগারের গেইটে ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করার পর তিনি মুক্তি পান।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম কারাগারের ডেপুটি জেলার নওশাদ মিয়াকে তড়িঘড়ি করে সিঙ্গেল অর্ডারে বদলি করা হয়েছে। শনিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কারা প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে নওশাদ মিয়া বলেন, “আমাকে বদলি করা হয়েছে, তবে কারণ জানি না। মন ভালো নেই। জামিন প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাই না অন্যদের সঙ্গে কথা বলুন।”

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন সংক্ষেপে বলেন,“এখন ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলবো।”জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ দাবি করেন,“ছাত্রলীগ নেতার জামিন নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। সারাদিন তাকে অফিসে বসিয়ে রাখা হয়েছিল, কিন্তু অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কিছু জানি না। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরই মুক্তি দেওয়া হয়।”

অন্যদিকে কারাগারে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা পুলিশ স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের সদস্য আল আমিন বলেন, “কারাগার থেকে নিয়মমতো তথ্য পেয়ে আমরা যাচাই করি। আমাদের কাছে সায়েমের বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় দ্রুতই মুক্তির নির্দেশ দিই। সারাদিন বসিয়ে রাখার জন্য আমরা কোনো নির্দেশ দিইনি এর জবাব কারা কর্তৃপক্ষের।”

কারাগারে রাজনৈতিক বন্দিদের জামিন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের অজুহাতে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা বন্দিদের ভয় দেখিয়ে এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে থাকেন। বন্দিরা ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়ার অন্ধকারেই থাকেন, আর এই সুযোগেই চলে ভয়াবহ অর্থ বাণিজ্য।

সায়েমের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কারা অধিদপ্তরের দৃষ্টি পড়ে। তবে অভিজ্ঞ কারারক্ষীরা বলছেন, বড় দুর্নীতিবাজদের আড়াল করে বরং জুনিয়র এক কর্মকর্তাকে বলির পাঠা বানানো হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “কারাগারে জামিন বাণিজ্য ওপেন সিক্রেট। শুধু সায়েম নন অসংখ্য বন্দি আমাদের কাছে সুপার, জেলার থেকে কারারক্ষীদের হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন।”

গত ৫ ফেব্রুয়ারি পটিয়া থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সদস্য আবু সাদাত মো. সায়েম। দীর্ঘ ৯ মাস কারাবন্দি থাকার পর ১১ নভেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। সায়েম সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও পরিচিত।

সূত্র: প্রতিদিনের কাগজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *