April 7, 2026, 6:36 am
Headline :
বিজয়নগরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক দুর্নীতি আর অনিয়মের কারিগর শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলাম। পদিপাড়া বাজার মসজিদে অনিয়মের প্রশ্নে সাংবাদিককে হুমকি: স্থানীয়দের ক্ষোভ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে মির্জা এন এইচ রুবেল-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা ‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন ‎সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ ‘নানা ভাই’ বাহিনীর কবল থেকে ৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড মোংলা বন্দরে ভারত থেকে ১৬ হাজার টন চাল নিয়ে দুই জাহাজের আগমন নোয়াখালী-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে আল আমিন ইসলামী ফাউন্ডেশনের মোংলায় কোস্টগার্ড সদস্যের বুকে গুলি চালিয়ে  আত্মহত্যা সংসদে মাইক বিভ্রাট, ২০ মিনিটের বিরতির পর পুনরায় অধিবেশন শুরু

নেপালে বিজয়ের রক্তঝরা আর্তনাদ: ৬টি গুলি খেয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াটাই সহজ

নেপালে বিজয়ের রক্তঝরা আর্তনাদ: ৬টি গুলি খেয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াটাই সহজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নেপালের সাম্প্রতিক জেন-জি আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ডান পায়ে ছয়টি গুলি জেয়ে মারার চেয়ে বেঁচে থাকা সহজ ছিল না—এই ব্যথাব্যঞ্জক মন্তব্য করেছেন আহত যুবক বিজয় অধিকারী। বর্তমানে তিনি কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। (ছবি: খবরহাব)

তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট বিজয়; উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে জাপানে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু ৮ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভকালে প্রথম দিনের সংঘর্ষের মধ্যে তার ডান পায়ে ছয়টি গুলি লাগে এবং তার জীবন সে দিনের পর থেকে এক দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়।

বিজয় নিজস্ব জোরে বলেন, “আমরা প্রতিশোধ চাইতে বেরিনি। দুর্নীতি ও বেকারত্বের কষ্ট দেখে প্রতিবাদ করেছি — যদি আমরা কথা না বলি, তবে কে বলবে?” এর পরও আগের একটি দুর্ঘটনায় ভাঙা পা আবারও গুলিতে জখম হওয়ায় শারীরিক কষ্ট বেড়ে গেছে।

প্রথমদিকে সংবাদমাধ্যমে তার মৃত্যুর ভুল খবর ছড়িয়ে পড়লে মা মূর্ছা যান; পরে বন্ধুদের বরাতে পরিবার জানতে পারে তিনি বেঁচে আছে—এই খবর মায়ের ব্যথাকে কমায়নি, বরং বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিজয়ের পরিবার আগের চিকিৎসার জন্য ঋণগ্রস্ত; নতুন এই আহতিতে পুনর্বাসন ও চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচ তাদের জন্য নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রমা সেন্টার তার ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিনামূল্যে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজয়, তবে তিনি অভিযোগ করেন যে সব আহতই সমান সহায়তা পাচ্ছে না—যারা সরাসরি জেন-জি আন্দোলনের অংশ হিসেবে লেবেলিং পেয়েছে, তারা ভিন্ন আচরণ পাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, দেশজুড়ে চলা অশান্তির সময়ে তিনদিনের কারফিউ কারণে তার বাবা-মা সহপরিবার কাঠমান্ডুতে আসতে পারেননি; এখন তারা রাজধানীতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। এ পর্যন্ত তার দেখভাল করেছেন মামা ও বন্ধুরা।

বিজয় ক্ষোভ নয়, বিবেকের টানে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন—তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নিয়েছিলাম। কেউ গাছ পাহারা দিয়েছিল, কেউ আবর্জনা সরিয়েছে, কেউ পানি পৌঁছে দিয়েছে। আমরা অগ্নিসংযোগ করিনি।” তিনি বলেন যে ‘জেন-জি’ নামটি পরে অনুপ্রবেশকারীরা ব্যবহার করেছে এবং আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের নয়।

বিজয় তীব্রভাবে প্রশ্ন করেছেন, কেন নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানো হয়—অনেকে তখন স্কুলের ইউনিফর্মে ছিল, হাতে বই-খাতা ছিল। তিনি সময়ের পরামর্শ দিয়ে বলেন, “নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের কঠোর শাস্তি চাই; যদি দায়ীদের রক্ষা করা হয়, আমরা আবার রাস্তায় নামব।”

বিজয় আর তার পরিবারের কাছে এখন প্রধান আশা- নির্ভীক ও স্বচ্ছ তদন্ত; তিনি সতর্ক করে বলছেন, তদন্ত না হলে আন্দোলন আবার শানিত হবে এবং আগের চেয়েও তীব্র হবে।

সূত্র: খবরহাব


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *