March 30, 2026, 11:21 am
Headline :
দুর্নীতি আর অনিয়মের কারিগর শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলাম। পদিপাড়া বাজার মসজিদে অনিয়মের প্রশ্নে সাংবাদিককে হুমকি: স্থানীয়দের ক্ষোভ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে মির্জা এন এইচ রুবেল-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা ‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন ‎সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ ‘নানা ভাই’ বাহিনীর কবল থেকে ৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড মোংলা বন্দরে ভারত থেকে ১৬ হাজার টন চাল নিয়ে দুই জাহাজের আগমন নোয়াখালী-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে আল আমিন ইসলামী ফাউন্ডেশনের মোংলায় কোস্টগার্ড সদস্যের বুকে গুলি চালিয়ে  আত্মহত্যা সংসদে মাইক বিভ্রাট, ২০ মিনিটের বিরতির পর পুনরায় অধিবেশন শুরু শফিকুর রহমান: এক স্বঘোষিত বিরোধী দলীয় নেতার অদ্ভুত কাহিনি

দুর্নীতি আর অনিয়মের কারিগর শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলাম।

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দুর্নীতি আর অনিয়মই মেহেন্দিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলামের যেন মূলনীতি । দুর্নীতিতে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছেন তিনি। ৫ই মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এরপর থেকে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনের আত্মীয় পরিচয় দানকারী এই শিক্ষা অফিসার কে আর নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করতেই হয়নি কখনো। যদিও হাসান মামুন বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন মইনুল ইসলাম নামে তার কোন সরকারি চাকরিজীবী আত্মীয় নেই।

মেহেন্দিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রতিষ্ঠার পর থেকে এযাবৎকালে অফিস রুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসির ব্যবস্থা না থাকলেও মইনুল ইসলাম দায়িত্ব নেবার পর অফিস সেজেছে সাজ সাজ রূপে, অফিস রুমে বসানো হয়েছে হিম শীতল ঠান্ডা বাতাসের এসি।
এদিকে মেহেন্দিগঞ্জের ২০৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রায় ১৩০০ শত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মডেল টেস্ট পরীক্ষার ফি নামে জনপ্রতি ১২০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে যাহা মেহেন্দিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা ইতিহাসে বিরল। সিলেবাস তৈরি করে নেয়া হয়েছে জন প্রতি ২০ টাকা করে। নিলাম এর নাম করে এপর্যন্ত ভালো-মন্দ মিলিয়ে প্রায় শতাধিক ভবন ভেঙে বিক্রি করে দিয়েছেন ঠিকাদারের কাছে, বনবিভাগের অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করে দিয়েছেন হাজার হাজার গাছ।। দুইশ আটটি বিদ্যালয়ের বিপরীতে হাজার টাকা করে নিয়েছেন শুধু স্লিপ বাবদ। ইচ্ছেমতো টিটিডিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থিত গোডাউন থেকে সরকারি বই বিক্রি করে দেন তিনি। কোন শিক্ষক-শিক্ষিকা বদলি হইতে চাইলে অফিস খরচ বাবদ তাকে ক্ষেত্র ভেদে ২0000 থেকে ৪0000 টাকা পর্যন্ত অফিস খরচ বাবদ রাখেন তিনি। এ বিষয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন চলাকালীন সময়ে একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা অভিযোগ পেশ করেন বর্তমান এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের কাছে। অধিদপ্তর থেকে পাশকৃত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা পেতে হলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা।
গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র সংস্কার বাবদ প্রায় ৪৫টি প্রতিষ্ঠানে সরকারিভাবে প্রাপ্ত ৫০০০০/- করে টাকার পার্সেন্টেজ নিয়েছেন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্র নেই তবুও ওই প্রতিষ্ঠানের নামে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে বরাদ্দ নিয়ে নিজেই খেয়ে ফেলেছেন সবটুকু।
শুধুমাত্র অনিয়ম আর দুর্নীতিতেই সীমাবদ্ধ নন তিনি, হীন চরিত্রের দিক থেকেও তার রয়েছে বেশ সুনাম। সুযোগ পেলে ট্রেনিং এর নাম করে সুন্দরী শিক্ষিকাদের নিয়ে তিনি বরিশালের হোটেলে রাত্রি যাপন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মইনুল ইসলামের নামে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেহেন্দিগঞ্জের কয়েকজন প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষা কর্মকর্তা মাইনুল ইসলামের দুর্নীতির এসব ফিরিস্তি পেশ করেন সাংবাদিকদের কাছে। তারা চান প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সঠিক নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে শিশুদের মেধা বিকাশে। এক্ষেত্রে মইনুল ইসলামের মত দুর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে মেহেন্দিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা অবনতি ছাড়া আর কিছু আশা করা বেমানান।

মইনুল ইসলামের অনিয়ম দুর্নীতি এবং হীন চরিত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশালের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জেলা অফিসার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, উপজেলা পর্যায়ের কোন অফিসারকে সরকারিভাবে কোন শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র দেয়া হয় না,
তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ ব্যবহার করে বলে জেনেছি। ভবন ভাঙ্গা এবং গাছ কাটা সম্পর্কে মোস্তফা কামাল বলেন, উপজেলা পর্যায়ে নিলাম কমিটি রয়েছে যেখানে প্রধান থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কাজেই নিলাম সম্পর্কিত বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে জানার জন্য বলেন তিনি। মইনুল ইসলাম সম্পর্কে জেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তফা কামাল বলেন, লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন না। তবে যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে সেক্ষেত্রে তারা তদন্তের সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
নিলাম সম্পর্কিত বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজুর রহমান বলেন, বেশ কয়েকটি স্কুল ইতিমধ্যে নিলাম হয়েছে তবে নির্দিষ্ট সংখ্যাটা এই মুহূর্তে আমার জানা নেই তবে কাগজ দেখে বলতে পারব। নিলাম কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্কুলের ভবন ভেঙে বিক্রয় করা আইনসিদ্ধ নয় বলে জানান তিনি।
যদিও এই সকল অভিযোগের বিষয়গুলো অস্বীকার করে মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম বলেন, এমন অভিযোগ ইতিপূর্বেও হয়েছিল যাহা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। নিজ অফিসে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র নিজের ব্যাক্তিগত টাকায় করেছেন বলে জানান তিনি। স্কুলের গাছ কাটা এবং ভবন ভেঙ্গে বিক্রয়ের বিষয়ে মইনুল বলেন মরা গাছ কাটতে বন ও পরিবেশের অনুমতির প্রয়োজন হয় না। নিলামে বিক্রয়কৃত গাছ এবং ভবনের সঠিক সংখ্যা উল্লেখ না করে নথিতে উল্লেখ রয়েছে বলে জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা। প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সাংবাদিক কে মামলার হুমকিও প্রদান করেন মেহেন্দিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঈনুল ইসলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *