বিশেষ প্রতিবেদক | ১০ মার্চ ২০২৬
প্রতিবেশী দুই দেশ—নেপাল ও বাংলাদেশ। গত এক বছরের ব্যবধানে দুই দেশেই ‘জেন-জি’ বা জেনারেশন-জেড প্রজন্মের নেতৃত্বে বড় ধরনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। নেপালে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এবং বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিনের শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটে। কিন্তু এই অভ্যুত্থানের পরবর্তী নির্বাচনে দুই দেশের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। নেপালে তরুণদের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে গেলেও বাংলাদেশে তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।
নেপালের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ২৬৫ আসনের মধ্যে সরাসরি ভোটে ১২৫টি আসনেই জয় পেয়েছে আরএসপি। দলটির ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। নেপালি র্যাপার ও কাঠমান্ডুর জনপ্রিয় মেয়র বালেন্দ্র শাহ এখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই তাদের এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকেও বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন বালেন্দ্র শাহ।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর গঠিত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলে। ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ৩০টি আসনে লড়ার সুযোগ পায় তারা, যার মধ্যে জয় আসে মাত্র ৬টিতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান মনে করেন, এনসিপি নিজেকে ‘পরিবর্তনের এজেন্ট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির পিছিয়ে পড়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:
নেপালে ৩ কোটি মানুষের দেশে ১০ লাখ নতুন ভোটার এবং বাংলাদেশে ১৭ কোটি মানুষের দেশে প্রায় অর্ধকোটি নতুন ভোটার ছিল। দুই দেশেই তরুণরা রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি তুলেছিল। কিন্তু নেপালে আরএসপি যেভাবে প্রথাগত রাজনীতিকদের কোণঠাসা করতে পেরেছে, বাংলাদেশে এনসিপি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি।
নেপালের এই ফলাফল এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে—কেন বাংলাদেশে তরুণদের দল আমূল পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হলো?
সবশেষ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় খবরের আপডেট পেতে ZTV Bangla-এর সাথেই থাকুন।