নিজস্ব প্রতিবেদক | জেটটিভি বাংলা প্রকাশিত: ৮ মার্চ, ২০২৬
জ্বালানিমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও রাজধানীর জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। রোববার (৮ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে তেলের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি ও চরম হাহাকার। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ লিখে নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও কেবল সরকারি ও জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়া সাধারণ চালকদের তেল দেওয়া হচ্ছে না। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা।
সরেজমিনে রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, সকাল থেকেই তেলের জন্য লম্বা লাইন। সাধারণ চালকদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও বিশেষ কিছু গাড়িতে তেল দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগে পাম্পের বাইরে হট্টগোল ও বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিপো থেকে নতুন সরবরাহ না আসা পর্যন্ত সবাইকে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মজুদ সীমিত হওয়ায় কেবল প্রশাসন ও জরুরি যানবাহনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে দৈনিক বাংলা মোড় ও মতিঝিল এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে। মতিঝিলের একটি পাম্পের মালিক জানান, সাধারণ সময়ের তুলনায় সরবরাহ অনেক কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৩০ হাজার লিটার তেল আসত, সেখানে এখন মাত্র আড়াই হাজার লিটারের বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। এই সামান্য তেল দিয়ে বিপুল চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক চালক অভিযোগ করেছেন, সরকার ৪০ দিনের রিজার্ভের কথা বললেও দুদিনেই কেন পাম্পগুলো শূন্য হয়ে যাচ্ছে?
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় দেশে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত কেনাকাটা শুরু হয়েছে। মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল মজুদ করার চেষ্টা করায় হঠাৎ চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা খুচরা পর্যায়ের সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।