৫ মার্চ, ২০২৬ | ঢাকা
ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে এই যুদ্ধের রেশ এখন আছড়ে পড়ছে ভারত মহাসাগরেও। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে একটি মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানি নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ রণতরী ‘আইরিস দেনা’ (IRIS Dena) সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে গেছে। এই ঘটনায় অন্তত ৮৭ জন ইরানি নাবিক ও সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভারত মহাসাগরে রণকৌশলগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সাবমেরিনের নিখুঁত নিশানায় আক্রান্ত হয়ে মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায় ইরানি জাহাজটি। এই ঘটনার পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভারত মহাসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথে বৃহৎ শক্তিগুলোর এই সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, গত কয়েক দিনের টানা মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। হামলায় ইরানের অসংখ্য বেসামরিক স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এতে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান।
এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার ও পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলো। দেশগুলো জানিয়েছে, এই সংঘাত তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
শ্রীলঙ্কা উপকূলে ডুবে যাওয়া ‘আইরিস দেনা’র বেঁচে যাওয়া সদস্যদের উদ্ধারে বর্তমানে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘ ও প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের অন্যতম তীব্র আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিচ্ছে।