আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রিয়াদ প্রকাশিত: ৪ মার্চ, ২০২৬
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) স্টেশনে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত সোমবার (৩ মার্চ) সংঘটিত এই হামলার নেপথ্যে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
রয়টার্স এবং ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদস্থ মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি সতর্কবার্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলার প্রভাবে দূতাবাসের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়েছে এবং ভেতরে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তবে যে ‘স্পাই হাব’ বা সিআইএ স্টেশনটিকে হামলার কেন্দ্রবিন্দু বলা হচ্ছে, সেটিই কি মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীদের নির্দিষ্ট স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গত শনিবার ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, এই ড্রোন হামলাকে তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, এর আগে ইরানে চার মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। সিআইএ কর্তৃপক্ষ এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনে তোলপাড় চলছে।
হামলার পর সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মিশন এক বিশেষ নিরাপত্তা বার্তায় আমেরিকান নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাস এলাকা এড়িয়ে চলতে বলেছে। মঙ্গলবার রুটিনমাফিক সব সেবা এবং জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বার্তায় বলা হয়েছে,
“ধাহরান-এ আসন্ন ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইউএভি (ড্রোন) হামলার হুমকি রয়েছে। মার্কিন কনস্যুলেটে আসা থেকে বিরত থাকুন।”
এদিকে মার্কিন সিনেটের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে যে, পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ইরানে সরাসরি সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও ওয়াশিংটন পোস্ট