ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ছাত্রদলের সাবেক এক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় সোমবার সকালে নিহতের ভাই শরণখোলা থানার ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন বলে থানার ওসি শামিনুল হক জানিয়েছেন।
রোববার রাতে সোনাতলা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডে নিহত ৩০ বছর বয়সী আরিফুল ইসলাম মাসুম শরণখোলার খুড়িয়াখালী গ্রামের আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। বাগেরহাট হাসপাতালে তার লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন বলছেন, মাসুম তাদের দলের বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে সক্রিয় ছিলেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন- সোনাতলা গ্রামের খলিল বয়াতি, শাহজালাল বয়াতি ও তানজের হাওলাদার।
ওসি শামিনুল বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে ছাত্রদল কর্মী আরিফুল ইসলাম মাসুমের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। রোববার রাত নয়টার দিকে মাসুম তার শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে সোনাতলা গ্রামে রওনা দিলে পথে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে তার দেখা হয়।
“এ সময় বিরোধের জেরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি হয় এবং তারা মাসুমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান; সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
এ পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, “পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে জামায়াতের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি তারা।
“গ্রেপ্তার তিনজন বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমের নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন।”
শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলনের অভিযোগ, “সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে মাসুমের বিরোধ ছিল। এর জেরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হরয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীমের সঙ্গে যোগাযোগের করা হলে তিনি বলেন, “পারিবারিক বিরোধের জেরে আরিফুলকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এটাকে রাজনীতিতে ট্যাগ করছে বিএনপি।”
এ ঘটনার সঙ্গে জামাতায়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন এ নেতা।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে ওসি শামিনুল হক জানিয়েছেন।