নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন আর জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় পেরিয়ে বিএনপি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, তখন রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—নতুন মন্ত্রিসভায় ছাত্রদলের প্রতিনিধিত্ব কতটুকু? নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘তরুণ নেতৃত্ব’ ও ‘ছাত্রদলের মূল্যায়ন’।
বিগত দেড় দশকে গুম, খুন ও অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হওয়া ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাই ছিলেন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথের প্রধান দেয়াল। জুলাই আন্দোলনে শহীদ ওয়াসিমসহ অসংখ্য ছাত্রদল কর্মীর আত্মত্যাগ হাসিনাশাসনের পতন ত্বরান্বিত করেছে। ৫ই আগস্টের পর ‘তারুণ্যের’ জয়গান গাওয়া হলেও বিএনপির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় ছাত্রদলের ত্যাগী ও কারিশম্যাটিক নেতাদের নাম না থাকায় তৃণমূলের ক্ষোভ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি বা অন্যান্য দল যেখানে তাদের ছাত্রনেতাদের সরাসরি সংসদ ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, সেখানে বিএনপি কেন পিছিয়ে? যেখানে আসিফ, নাহিদ বা হাসনাতরা জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেখানে রাকিব, নাসির কিংবা আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়ার মতো নেতাদের পলিসি লেভেলে সুযোগ দেওয়া সময়ের দাবি। বিশেষ করে ২০২২ সালে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়েও আফসানের সেই কালজয়ী স্লোগান ‘জিয়াতেই শক্তি, জিয়াতেই মুক্তি’ আজও নেতা-কর্মীদের রক্তে নাচন ধরায়।
তৃণমূলের দাবি, তারেক রহমানের আস্থাভাজন এই তরুণ তুর্কিদের যথাযথ মূল্যায়ন না করলে ভবিষ্যতে মেধাবীরা ছাত্র রাজনীতিতে আগ্রহ হারাবে। পাইপলাইনে দক্ষ নেতৃত্ব ধরে রাখতে বিএনপির হাইকমান্ড মন্ত্রিসভায় ছাত্রদলের অন্তত ক্ষুদ্র পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ কর্মীদের।