নির্বাচনে ব্যবহৃত সরকারি সিলের আদলে নকল সিল তৈরির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, নকল সিল মেরে এবং ব্যালট ছেপে ক্ষমতায় যাওয়ার একটি ভয়ংকর পরিকল্পনার আভাস আমরা পাচ্ছি। এটি নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
সম্প্রতি নকল সিল তৈরির অভিযোগে একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক গ্রেপ্তার হন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতা সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফের নির্দেশে নির্বাচনী প্রতীকে ভোট দেওয়ার সময় ব্যবহৃত সিলের মতো সিল তৈরি করা হয়েছিল।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর জামায়াতে ইসলামী সৌরভ হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং দাবি করে, ভোটারদের “ভোট দেওয়া শেখানোর” জন্য এসব সিল তৈরি করা হচ্ছিল।
তবে এই ব্যাখ্যাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন ড. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ভোট শেখানোর নামে হুবহু সরকারি সিলের অনুকরণে সিল বানানোর কোনো যুক্তি নেই। সিল মানেই ব্যালট। আর ব্যালট মানেই নির্বাচনের মূল ভিত্তিতে আঘাত।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী আসনের ব্যালট পেপার আলাদা নকশা ও প্রতীক অনুযায়ী ছাপানো হয়, যা নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিরাপত্তার আওতায় থাকার কথা। তাহলে প্রশ্ন হলো—এই নকল সিল কোথায় ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল?
ব্যালট পেপারের নকশা বা সফট কপি ছাড়া এই সিল কার্যকর হওয়ার কথা নয়। এর অর্থ, নির্বাচন ব্যবস্থার ভেতরে কোথাও না কোথাও ভয়ংকর ফাঁক তৈরি হয়েছে বা করা হয়েছে।
ড. জাহেদ উর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি কোনো চক্র অবৈধভাবে ব্যালট ছাপিয়ে তাতে আগে থেকেই সিল মেরে নেয়, তাহলে ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে সেগুলো ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ে দেওয়া অসম্ভব নয়।
বিশেষ করে অনেক কেন্দ্রে দেহ তল্লাশির ঘাটতি ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব থাকায় এ ধরনের কারচুপির ঝুঁকি বাড়ে।
তিনি এই পরিস্থিতিতে সব রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তার মতে, শুধু প্রদত্ত ভোট গণনা নয়, বরাদ্দকৃত মোট ব্যালটের বিপরীতে কতগুলো ব্যালট অব্যবহৃত রইল—এই হিসাব লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। এতে বাইরে থেকে অতিরিক্ত ব্যালট ঢোকানো হলে তা সহজেই ধরা পড়বে।
ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে শুধু একটি দল নয়—পুরো রাষ্ট্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এখনই নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি।