লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে ভোটের সিল তৈরির অভিযোগে জামায়াত নেতা ও এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জালিয়াতির উদ্দেশ্যে এসব সিল তৈরি করা হচ্ছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। মামলার পর অভিযুক্ত জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা জামায়াত।
ঘটনার বিস্তারিত: সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কের ‘মারইয়াম প্রিন্টার্স’ থেকে ১৬ ঘরের ৬টি ভোটের সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ সময় প্রিন্টার্স মালিক সোহেল রানাকে আটক করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, জামায়াত নেতা শরীফ গত ৩০ জানুয়ারি জাল ভোট প্রদানের অসৎ উদ্দেশ্যে ৫টি নির্বাচনী সিলের অর্ডার দিয়েছিলেন, যার প্রমাণ সোহেলের হোয়াটসঅ্যাপের ভয়েস মেসেজে পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ: ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং জালিয়াতির উদ্দেশ্যে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে এই সিলকাণ্ড ঘটিয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিম পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, আটক সোহেল জামায়াতের কেউ নন। তবে অভিযুক্ত অপর আসামি এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন শরীফকে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া নিশ্চিত করেছেন যে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে শরীফের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য: সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন জানান, আটক সোহেল রানাকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত জামায়াত নেতা শরীফ বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে এবং এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনকালীন এমন থমথমে পরিস্থিতিতে এই সিল জব্দের ঘটনা জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।