অনলাইন ডেস্ক,
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গেছে প্রায় ৪৪ বছর। স্বামীর অবর্তমানে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে মাত্র আড়াই বছরের মাথায় খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। দলটির নেতৃত্বে তার ৪১ বছরের পথচলায় বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের উত্থান–পতন, বিশ্বাস–অবিশ্বাস আর সংগ্রামের কঠিন পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবনের ইতি ঘটে। যেন অনেকদিন পরে স্বামীর পথেই হাঁটা শুরু হলো তার- ইতিহাসের আরেক অধ্যায়ে।
কল্পনায় যেন এক অনন্ত পুনর্মিলন- ৪৪ বছর পর হয়তো একই গৃহশয্যায় দেখা হবে দুজনের। দীর্ঘ পথচলার গল্প, অসমাপ্ত স্বপ্ন, অর্জন-অপ্রাপ্তির কথায় ভরে উঠবে আলাপ।
প্রথম দেখােই হয়তো প্রশ্ন করবেন খালেদা জিয়া, “আমি কি পেরেছি তোমার অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের সারথি হতে?”
আর কোনো কথা না বলে, নীরব এক হাসিতে হয়তো জিয়াউর রহমান বলবেন, “আমি ধন্য হয়েছি! চলো, এবার অনন্তকাল ধরে বিশ্রাম নেই।”
যাদের জীবনের গল্প গাঁথা হয় ইতিহাসের সুতোয়, তাদের সম্পর্কও হয়ে ওঠে সময়ের সীমানা ছাড়ানো। পাশাপাশি ফুটে থাকা দুটি ফুলের মতো- একসাথে, এক রঙে।
তবু প্রশ্ন জাগে- মানুষ যখন ভীষণ একা হয়ে যায়, তখন সে কাকে মনে করে? রাজনৈতিক ব্যস্ততা, ক্ষমতার জটিলতা, হাজারো মানুষের ভিড়- সবকিছুর বাইরে গিয়ে কি কখনো নিজের জন্য একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় পেয়েছিলেন তিনি?
এক কাপ চায়ের ধোঁয়া ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। সেই সঙ্গে মিলিয়ে যায় অনেক প্রশ্নও- যার উত্তর হয়তো শুধু সময়ই জানে।