ধর্ম ডেস্ক :
কোরআন শুধু ইবাদত নয়, এটি মুসলমানের জীবনে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ ও মর্যাদা বৃদ্ধি করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিয়ামতের দিন কোরআন মানুষের পক্ষে সাক্ষী দেবে, আর আল্লাহ প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে মর্যাদা প্রদান করবেন। তাই প্রতিদিন কোরআন পড়া ও বোঝার চেষ্টা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য।
কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ কেন?
কোরআন তিলাওয়াত, তা নিয়ে চিন্তা ও জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা মানুষকে নৈতিক ও সামাজিকভাবে গড়ে তোলে। নিয়মিত কোরআন পড়া ও তার আদেশ–নিষেধ মেনে চলা একটি ফরজ দায়িত্ব। কোরআনের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মূল দিকগুলো হলো:
কোরআনকে আল্লাহর চিরন্তন বাণী হিসেবে মানা, নিয়মিত তিলাওয়াত ও তাজবিদ অনুযায়ী পড়া, তাফসির জানার চেষ্টা করা, অন্যদের শেখানো এবং মানুষকে আহ্বান জানানো, কিয়ামতের দিন কোরআন হবে সাক্ষী
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরআন তোমার পক্ষে বা বিপক্ষে প্রমাণ হবে। যে কোরআনকে সামনে রাখবে, তা জান্নাতের পথ দেখাবে; যে তা পেছনে রাখবে, তা জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেবে।
দুনিয়াতেও মর্যাদা বৃদ্ধি করে কোরআন
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এক ঘটনার মাধ্যমে দেখা যায়, আল্লাহর কিতাবের পাঠ ও দ্বীনের জ্ঞান ব্যক্তিকে সমাজে মর্যাদা দেয়। খলিফা ওমর (রা.) বলেছিলেন, আল্লাহ কিতাবের মাধ্যমে কিছু লোককে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন।
জান্নাতে উচ্চ মর্যাদার চাবিকাঠি
রাসুল (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়, সে সবার মধ্যে উত্তম।” কোরআনের প্রতিটি আয়াত তিলাওয়াত করলে জান্নাতে সেই অনুযায়ী অবস্থান বৃদ্ধি পাবে।
শেষ কথা
মুসলমানদের জন্য কোরআন পড়া অপরিহার্য, বোঝার চেষ্টা আরও গুরুত্বপূর্ণ। আরবি তিলাওয়াতের সঙ্গে মাতৃভাষায় অনুবাদ পড়া ও আলেম বা অধ্যয়ন চক্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বোঝাপড়াকে গভীর করবে। কোরআনের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক শুধু ইবাদত নয়, এটি দুনিয়ার পথচলা ও আখিরাতের মুক্তির দিশারিও বটে।