January 5, 2026, 7:36 pm
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

রজব মাসে আত্মোন্নয়নের সুযোগ: নিজেকে প্রস্তুত করুন ৬ সহজ উপায়ে

ধর্ম ডেস্ক :

মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি ও পবিত্র রমজানের প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হিসেবে পরিচিত রজব মাস। এই মাসে রয়েছে আত্মিক উন্নয়ন, তওবা ও আত্মসমালোচনার বিশেষ সুযোগ। কোরআনের নির্দেশনা ও ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির কারণে রজব মাস মুসলিম জীবনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

রজব মাসের মর্যাদা ও গুরুত্ব

রজব মাসকে বলা হয় ‘রজবুল হারাম’—অর্থাৎ সম্মানিত ও পবিত্র মাস। এটি ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের একটি, যে মাসগুলোতে যুদ্ধ ও সংঘাত নিষিদ্ধ। অন্য তিনটি পবিত্র মাস হলো জিলকদ, জিলহজ ও মুহাররম। এ তিন মাস পরপর এলেও রজব মাস আসে আলাদা সময়ে, তাই একে ‘রজবুল ফারদ’ও বলা হয়। এই মাসেই সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর ঘটনা—ইসরা ও মিরাজ। এ রাতে মহান আল্লাহ নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেন। ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবরা রজব মাসে মূর্তির উদ্দেশ্যে কোরবানি দিত। ইসলাম এসে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে—ইবাদত ও কোরবানি একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত।

কেন রজব মাসকে পবিত্র বলা হয়?

রজবসহ চারটি মাসকে পবিত্র ঘোষণার পেছনে দুটি মূল কারণ রয়েছে। প্রথমত, এ সময় যুদ্ধ ও হানাহানি নিষিদ্ধ, যদি না শত্রুপক্ষ আক্রমণ শুরু করে। দ্বিতীয়ত, এই মাসগুলোতে গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের পরিণতি অন্য সময়ের তুলনায় আরও ভয়াবহ। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন—“এই মাসগুলোতে নিজেদের ওপর জুলুম কোরো না।” নিজের ওপর জুলুম বলতে বোঝানো হয়েছে পাপে লিপ্ত হওয়া এবং ভ্রান্ত বিশ্বাসে জড়িয়ে পড়া। তাই এ মাসগুলোর পবিত্রতা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

আত্মসমালোচনার শ্রেষ্ঠ সময়

রজব মাস আত্মসমালোচনার উপযুক্ত সময়। ইবাদতে আমাদের একাগ্রতা কেমন, কথা ও কাজে সংযম আছে কি না, কোরআনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কতটা গভীর—এসব প্রশ্ন নিজেকে করা জরুরি। এই মূল্যায়নই রমজানের জন্য মানসিক প্রস্তুতির ভিত্তি গড়ে দেয়।

রজব মাস থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে ৬টি কার্যকর আমল

১. নিয়ত সংশোধন করুন
সব আমলের মূল হলো নিয়ত। রজব মাসের প্রতিটি ইবাদতের উদ্দেশ্য হোক রমজানের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি।

২. তওবা করুন ও ক্ষমাশীল হোন
মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তাই আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং অন্যের ভুল ক্ষমা করে দিন। এতে হৃদয় হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত থাকবে।

৩. নফল রোজার অভ্যাস গড়ে তুলুন
রজব মাসে নির্দিষ্ট কোনো রোজার ফজিলত সম্পর্কে সহিহ বর্ণনা না থাকলেও সোম ও বৃহস্পতিবার কিংবা মাসের মধ্যবর্তী তিন দিন রোজা রাখা সুন্নত। এটি আত্মসংযমের কার্যকর অনুশীলন।

৪. আত্মসংযমের চর্চা করুন
নফসের চাহিদা কমাতে সহজ খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত ভোগ-বিলাস এড়িয়ে চলার অভ্যাস করুন। এতে রমজানের সংযম সহজ হবে।

৫. দান ও সদকার পরিধি বাড়ান
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করুন। কাউকে সাহায্য করা, ভালো কথা বলা, পরিবারের কাউকে আনন্দ দেওয়া কিংবা খারাপ অভ্যাস ত্যাগের চেষ্টাও সদকার অন্তর্ভুক্ত।

৬. বেশি বেশি দোয়া করুন
রমজান পর্যন্ত পৌঁছার তাওফিক, পূর্বের ইবাদত কবুল হওয়া এবং আত্মশুদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *