তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক :
ব্যবহারকারীদের অনলাইন নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য চালু করা গুগলের ‘ডার্ক ওয়েব রিপোর্ট’ ফিচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গুগলের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সেবা আর ব্যবহার করা যাবে না।
প্রায় দেড় বছর আগে চালু হওয়া এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য— যেমন ইমেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর, নাম কিংবা সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর— ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা শনাক্ত করা হতো। কোনো ডেটা লিক বা হ্যাকের ঘটনায় এসব তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবহারকারীকে সতর্কবার্তা পাঠানো হতো।
শুরুর দিকে অনেক ব্যবহারকারী এই সুবিধাকে কার্যকর মনে করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। গুগলের সাপোর্ট পেজে জানানো হয়েছে, ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ অভিযোগ করেছে যে, ঝুঁকি শনাক্ত হলেও করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যেত না।
সোশ্যাল মিডিয়ায়ও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে রেডিটে ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, রিপোর্ট পাওয়ার পর বাস্তবে কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা পরিষ্কার বোঝা যেত না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধু পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের পরামর্শ ছাড়া কার্যকর কোনো সমাধান মিলত না।
এই বাস্তবতায় ডার্ক ওয়েব রিপোর্ট ফিচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তারা এখন এমন নিরাপত্তা টুলের ওপর জোর দেবে, যেগুলো ব্যবহারকারীদের জন্য আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান দিতে পারে।
এক বিবৃতিতে গুগল জানিয়েছে, অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলায় তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ডার্ক ওয়েবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল হুমকি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় নতুন ও উন্নত নিরাপত্তা টুল উন্নয়নে কাজ করা হবে।
ডার্ক ওয়েব রিপোর্টের বিকল্প হিসেবে গুগল ব্যবহারকারীদের কয়েকটি নিরাপত্তা সুবিধা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘সিকিউরিটি চেকআপ’, যা গুগল অ্যাকাউন্টের সামগ্রিক নিরাপত্তা যাচাই করে। এছাড়া ‘পাসওয়ার্ড ম্যানেজার’ শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড তৈরি করতে সহায়তা করে এবং ‘পাসওয়ার্ড চেকআপ’ সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে সতর্ক করে।
গুগল জানিয়েছে, ডার্ক ওয়েব রিপোর্ট ব্যবহারকারীদের ইমেইলের মাধ্যমে আগেই বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট নাইনটু ফাইভ গুগল প্রথম এই তথ্য প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, ডার্ক ওয়েব স্ক্যানিং কার্যক্রম ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। পরবর্তী এক মাস পর, ১৬ ফেব্রুয়ারি ফিচারটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হবে এবং তখন গুগলের সার্ভার থেকে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য মুছে ফেলা হবে।
যারা আগেভাগেই নিজেদের তথ্য মুছে ফেলতে চান, তারা ‘রেজাল্টস উইথ ইয়োর ইনফো’ অপশনে গিয়ে ‘এডিট মনিটরিং প্রোফাইল’ নির্বাচন করে ‘ডিলিট মনিটরিং প্রোফাইল’ অপশনের মাধ্যমে তথ্য মুছে ফেলতে পারবেন।