তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক :
ভারতের বাজারে হোয়াটসঅ্যাপের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ভারত সরকার মেসেজিং অ্যাপের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যা হোয়াটসঅ্যাপের দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সাধারণ ব্যবহারকারী এবং ছোট ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী: হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সবসময় সক্রিয় সিম কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। ওয়েব ও ডেস্কটপ ভার্সনে ব্যবহার করতে হলে প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর লগআউট করতে হবে। পুনরায় ঢোকার জন্য QR কোড স্ক্যান করতে হবে।
ভারত সরকারের যুক্তি, এই ব্যবস্থা সাইবার প্রতারণা ও ফিশিং ঠেকাতে সাহায্য করবে। ২০২৪ সালে ভারতে সাইবার প্রতারণার কারণে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২২৮ বিলিয়ন রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সমান) হয়েছিল।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষক এবং ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, বৈধ ব্যবহারকারীরাও সমস্যায় পড়বেন, এবং নিয়ন্ত্রণের সীমা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি ছোট ব্যবসার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দেশে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী ৫০ কোটির বেশি। দৈনন্দিন ব্যবহারকারী ৯৪ শতাংশ, আর হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস ব্যবহারকারীদের ৬৭ শতাংশ প্রতিদিন অ্যাপটি ব্যবহার করেন।
অনেক ছোট ব্যবসা এক ফোনের সিম দিয়ে অন্য ডিভাইসে ওয়েব ভার্সনে কাজ চালিয়ে থাকে। নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে, ফলে অর্ডার নেওয়া, গ্রাহক সাপোর্ট, সবই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসই এখন সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। গত এক বছরে ব্যবহার বাড়লেও নতুন ব্যবহারকারী কমেছে। বিশেষত ২০২১ সালের তুলনায় বিজনেস অ্যাপের ব্যবহার ১৩০% বেড়েছে।
শিল্প সংগঠন ব্রডব্যান্ড ইন্ডিয়া ফোরাম জানিয়েছে, নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন প্রযুক্তিগতভাবে জটিল এবং সাধারণ ব্যবহারকারীর ভোগান্তি বাড়াবে। আইন ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দেশনা কোনো আলোচনার মাধ্যমে নেয়া হয়নি এবং আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন। ভারতের বাজারে হোয়াটসঅ্যাপ এখন এক মোড়ের মুখে—এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অ্যাপটির ব্যবহার এবং ব্যবসার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।