January 5, 2026, 7:37 pm
Headline :
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিলেন আজহারী মায়ের জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে দার্জিলিং, তুষারপাতের শঙ্কা ঢাকা থেকে ৪৩৪ কিলোমিটার দূরে—জলপাইগুড়িতেও খালেদা জিয়ার জন্য শোকের মাতম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় স্বাভাবিক যান চলাচল, বাড়তি চাপ নেই তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা দিলেন নেপাল–ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জনজোয়ারে সম্পন্ন হলো খালেদা জিয়ার জানাজা ট্রোরেলে চড়ে খালেদা জিয়ার জানাজায় আসছেন নেতাকর্মীরা কারওয়ান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুকি ঢাকায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুকি উপকুলীয় এলাকায়

এম. আলতাফ মাহমুদ :

গত কয়েক বছরে দেশে মৃদ্ধ ও মাজারী ধরনের ভূমিকম্প হচ্ছে। গত ২১ নভেম্বর রোড শুক্রবার ঢাকা সহ সারা দেশে ভূমিকম্প হয়। যার মাত্রা ছিল ৫.৭। সময় ছিল ১১ সেকেন্ড যা ছিল শতান্ধীর ভয়াবহ ভূমিকম্প। নিহত হয়েছে ১০ জন এবং আহত হয়েছে প্রায় দুই শতাধিকের বেশী। দেশে আর ও একটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশংকা করছে বিজ্ঞানীরা।

ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের উত্তাল। আর বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে দেশের দক্ষিন উপকুল। বিজ্ঞানীদের মতে বড় ধরনের ধ্বংশ ঘটতে পারে ভূমিকম্প এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিন উপকূল তলিয়ে যেতে পারে বঙ্গোপসাগরে। ক্ষতি গ্রস্থ হতের পারে এক কোটি মানুষ। দুইটি বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে এখন বাংলাদেশ। ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং ভুমিকম্প বিশেষেজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ুন আক্তারের মতে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঙ্গে পরিচালিত গবেষনার ভীত্তিতে বাংলাদেশের সিলেট থেকে কক্সবাজার অঞ্চলের ভুঅভ্যান্তরে বর্তমানে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সংগঠিত হওয়ার মত শক্তি সঞ্চিত হয়ে আছে। ৮০০-১০০০ বছর আগে এই জোনে বড় ভূমিকম্প হয়ে শক্তিমুক্ত হয়েছিল। সেই শক্তি আমার নতুন করে সঞ্চিত হতে পারে যা আবার হতে পারে বড় ধরনের বিপদজনক।

ভূতত্ব বিদদের মতে বাংলাদেশে অবস্থান করছে ইন্ডিয়ান, ইউরোপিও ও বার্মিজ এই তিনটি সক্রিয় টেকটনিক প্লেটের সংযোগ স্থল এই প্লেট গুলোর ক্রমাগত সরনের ফলে ভুঅভ্যান্তরে বিপুল পরিমান শক্তি জমা হচ্ছে। এবং ভূমিকম্প হওয়ার বড় ধরনের আশংকা। ২১ নভেম্বর ভূমিকম্পের উৎপত্তির স্থল ছিল মাদবদি থেকে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃকপক্ষ (রাজউক) রাজধানী তিনশতটি ভবন চিহ্নিত করেছে। রাজউকের জোন-৫ এর ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান তারা ঝুঁকিপূর্ণ তিনশতটি বহুতল ভবন চিহ্নিত করেছে। আরো তারা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার কাজ করছে।

মনিরুজ্জামান জানান অনেক মালিক ৬,৭ ও ৮ তলা ভবনের অনুমতি নিয়ে পেশী শক্তির বলে ১২,১৩,১৪ ও ২০ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করেছে। এদের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নেবে। রাজধানী ঘুরে জানা গেছে ভূমিকম্পের বহুতল ভবন বসবাসকারীরা ভবন চেড়ে চলে যাচ্ছে, আবার অনেকই চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঢাকায় মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জন সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পেতে এখন এককোটির পরিবর্তে ২ কোটির বেশী মানুষ বসবাস করেছে যা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পাশা পাশি বেড়েছে ভবন থেকে বহুতল ভবন যা ভূমিকম্পের দুযোর্গ বড় ধরনের ধ্বংশের সৃষ্টি করতে পারে। এই জন্য দায়ী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বের যে কয়টি ছোট ছোট দেশ ও দ্বীপ রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুকির মুখে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বিজ্ঞানীরা আগেই মতামত দিয়েছিলেন জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বিশ্বের যে কয়টি ছোট ছোট দেশ ও দ্বীপ রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বাংলাদেশের দক্ষিন উপকূল সাগরে তলিয়ে যাবে, উপকূল চলে আসবে ঢাকার কাছাকাছি। ক্ষতির মুখে পড়বে উপকূলের প্রায় এক কোটি মানুষ। তারা হারাবে বাড়ি ঘর, গাছ-পালা, ফসলী জমি। যার প্রভাব ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রচন্ড তাপ, নদী ভাঙ্গন, ইত্যাদি জল বায়ু পরিবর্তনের লক্ষন। গত কয়েক বছর ধরেই-জল বায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

বিশেষ করে গত মে মাসের গরম ৩৬ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। আবহাওয়া বিদরা জানান ৩৬ বছর পূর্বে একবার এরূপ তাপমাত্রা ছিল, প্রখর রোদ ছিল। প্রচন্ড তাপদাহে মানুষ দিশে হারা হয়ে পড়েছে। কর্মজীবি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। একদিকে করোনা ভাইরাসের দ্বীতিয় ঢেউ অন্য দিকে প্রচন্ড গরমে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। যে ক্ষতি পূরণ হবার নয় বলে অর্থনীতি বিদদের ধারণা।

দেশে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছে ইট ভাটা। সেই ইটভাটার কলো ধোয়া ইঞ্জিন চালিত নৌযান ও সড়ক পথে গাড়ির কালো ধোয়া নির্গমনের ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে গাছ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। এতে যেমন কালো ধোয়া নির্গমন হচ্ছে তেমনি গাছ ধ্বংস হচ্ছে। গাছ-পালা বন্যা থেকে দেশকে রক্ষা করে। ঘূণিঝড় থেকে দেশকে রক্ষার জন্য সরকার বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী হাতে নিয়ে প্রতি বছর উপকূলে গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করলেও তা কাগজ কলমে সীমাবদ্ধ থাকে। নাম মাত্র বৃক্ষ রোপন করলেও এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা বন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে যোগশাযোগে ছোট ছোট গাছ বিক্রি করে ইট ভাটা মালিকদের কাছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অনেক লক্ষন উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। কৃষি বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন দেশের দক্ষিন উপকূলে কৃষি উৎপাদন ক্রমশঃই হ্রাস পাচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন মাত্রারিক্ত কীটনাশক ব্যবহার ফলে জমির উর্বরা শক্তি ক্রমশঃই হ্রাস পাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আবাদী জমি কমে বাড়িঘর নির্মিত হচ্ছে। ফসল উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। নদ-নদী দিয়ে ঘেরা উপকূল। সেখানেই প্রতিনিয়ত ভাঙ্গছে নদী। নদী ভাঙ্গনে ভাঙ্গছে বসত বাড়ী, স্কুল কলেজ ও হাট বাজার। নদী ভাঙ্গন কোন ভাবেই ঠেকাতে পারছেনা পানি উন্নয়ন বোর্ড। বিশ্বের বড় বড় ধনী দেশগুলো হাইড্রোজেন ছাড়াচ্ছে ফলে প্রভাব পড়চ্ছে ছোট ছোট দেশগুলোর উপর।

এ কারণে বিদে ছোট কয়েকটি দেশ, দ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে র জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এখন ঘড়ঋতু নেই। ১৯৭০ সালের ১২ নে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছাসের পর থেকে ষড়ঋতু হয়েছে। ৭০ এর ১২ নভেম্বর উপকূলে যে ঘূর্ণিঝড়ে আঘা ঐ ঘূর্ণিঝড়ের নাম ছিল “গোর্কি”। এ ঘূর্ণিঝতে উপকূলে লাখ মানুষের সলিল সমাধি ঘটে। বিজ্ঞানীরা তখনই দিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে উপকূলের সৃষ্টি আবার প্রা দুর্যোগ দিয়েই উপকূল ধ্বংস হতে পারে। যার লক্ষন। পরিবর্তন। ৭০ এর পর থেকে প্রায় অর্ধশত ঘূর্ণিঝাড় উ আঘাত হানে। যার মধ্যে শতাব্দীর আরেকটি বড় ঘূর্ণিঝড় ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর যার নাম ছিল “সিডর”। নি ক্ষতি উপকূল বাসী আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি।।

পরিবর্তনের ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের জন্য প্রধ শেখ হাসিনা তহবিল গঠন করেছে। বিশ্বের বড় বা দেশগুলোর কাছে আবেদন করেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে কাটিয়ে স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে পারে। জ পরিবর্তনের বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের উপকূল তথা বিশ্বের ম্যান গ্রোফ হিসেবে পরিচিত সুন্দরবন। সুন্দরবনের সমস্ত গাছপালা প্রাকৃতিক উপায়ে কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অকালে গাছপালা মরে। সুন্দরবন তার সৌন্দর্য্য হারাতে বসেছে। আমরা আশা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার বাংলাদেশ সরকার ধনী দেশ গুলোকে বড় তহবিল নিয়ে আসার আহ্বান জানাবেন এবং বড় ধরনের ক্ষতির মুখ বাংলাদেশকে রক্ষা করবে। ধনীদেশের সহযোগীতা ছাড় পূরণ সম্ভব হবে না।

আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করণে দেশগুলোর কাছ থেকে তহবিল গঠন করতে হবে। গতিগ্রস্তরা তাদের ক্ষতিপূরণ করে বসবাস করতে পারে। ম্যানগ্রক হিসেবে পরিচিত সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে বছর সরকার সুন্দরবন থেকে প্রচুর অর্থ আয় করছে। সু বাচলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আয় করা সুন্দরবনের গাছ প্রাকৃতিক উপায়ে জন্য। এ বনে বেশি বো সরকারের বৃক্ষ রোপন করা প্রয়োজন। গাছপালা ঘূর্ণিঝাড় গাছকে রক্ষা করে। তাই সরকারকে জোড়ালো পদক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে দক্ষিন উপকূলকে বাচাতে এটাই আমরা আশা করি। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে ব সরকার ও জনগন উভয়কে দ্রুত স্বল্প ও মধ্য দীর্ঘ। পরিকল্পনা নিয়ে ভূমিকম্প মোকাবেলায় প্রস্তুত হতে হবে

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিষ্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *