জেডটিভি বাংলা ডেস্ক :
বাংলাদেশে জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি জেলেদের জীবন-জীবিকা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, “জলজ সম্পদ রক্ষায় শুধু পরিবেশগত দৃষ্টিকোণই নয়, এর সঙ্গে মৎস্যজীবীদের পরিচয়, শ্রমের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং জীবিকার নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।”
শনিবার সকালে রাজধানীর সিক্স সিজনস হোটেলে অনুষ্ঠিত সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএসডি) এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) আয়োজিত ‘৭ম সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সম্মেলন ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা ফরিদা আখতার আরও বলেন, “দেশের প্রাণীজ প্রোটিনের বড় অংশ আসে মাছ, ডিম ও অন্যান্য প্রাণীজাত পণ্য থেকে, যা মূলত ক্ষুদ্র খামারিরা উৎপাদন করছেন— এদের অধিকাংশই নারী। কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না।”
তিনি জানান, বাংলাদেশের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক জলসীমা রয়েছে এবং এতে প্রচুর জীববৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও মৎস্যসম্পদের যথাযথ ব্যবহার এখনো নিশ্চিত হয়নি। অবকাঠামো উন্নয়নে ত্রুটি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ফরিদা আখতার বলেন, “অনেক স্থানে পর্যাপ্ত কালভার্ট না থাকায় জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে— ফলে মাছের বিচরণ ও প্রাকৃতিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।” তিনি আরও জানান, দেশের প্রাকৃতিক ও সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণের জন্য মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া ঘোষণাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তবে এসব উদ্যোগ আরও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ মাছের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ হলেও প্লাস্টিক ও শিল্পবর্জ্যের দূষণ এখন মাছের জীবন ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”সম্মেলনে ইউল্যাবের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমরান রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি, আর সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউল্যাব বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সাইদা মাদিহা মুরশেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শারমিন্দ নীলোর্মি। আলোচনায় বিভিন্ন নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।